নেদারল্যান্ডসে আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা নেই, শীতে রাস্তায় থাকার শঙ্কা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬

নেদারল্যান্ডসে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। শীত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জায়গা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেককে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

সংবাদমাধ্যম এনএলটাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জায়গার সংকট বাড়ছে। বিশেষ করে তের আপেল অভ্যর্থনা কেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের চাপ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় আশ্রয়প্রার্থী অভ্যর্থনা সংস্থা (সিওএ) জানিয়েছে, কেন্দ্রটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে সেখানে নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে না পারলে নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের কেউ কেউ রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হতে পারেন।

আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা

সিওএর দাবি, আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গার সংকটের জন্য আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি দায়ী নয়। বরং আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আবেদনকারীদের তের আপেল কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় থাকতে হচ্ছে। ফলে নতুনদের জন্য জায়গা খালি করা যাচ্ছে না।

এনএলটাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয়ের আবেদন পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং আদালতে আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগায় সংকট আরও জটিল হচ্ছে। নতুন আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা কমলেও আবাসনব্যবস্থার ওপর চাপ কমছে না।

নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ

আবাসন সংকটে শুধু নতুন আশ্রয়প্রার্থীরাই নন, আশ্রয়ের স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিরাও ভুগছেন। দেশটিতে আশ্রয়ের অনুমতি পাওয়া প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো স্থায়ী বা উপযুক্ত আবাসন বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ডাচ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আশ্রয়প্রাপ্তদের আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগও বাধার মুখে পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী, শিশু এবং চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে সিওএ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই শ্রেণির আশ্রয়প্রার্থীদের জন্যও তের আপেল কেন্দ্রে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবাসন সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে শীতের মধ্যে এসব মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

রেড ক্রসের জরুরি আশ্রয়ও পূর্ণ

সিওএর প্রধান রেমকো বাক্কার নেদারল্যান্ডসের পৌরসভাগুলোকে সংকট মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এনএলটাইমসের বরাতে তিনি বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের যেন রাস্তায় রাত কাটাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাঁর ভাষায়, মানুষকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেওয়া অমানবিক।

গত কয়েক মাসে নেদারল্যান্ডসে রেড ক্রসও গৃহহীন আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য জরুরি রাতযাপনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সম্প্রতি এসব আশ্রয়কেন্দ্রের জায়গাও পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে আরও বেশি আশ্রয়প্রার্থীর রাত কাটানোর জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

আবাসন সংকটের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়েও কঠোর পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছে নেদারল্যান্ডস সরকার। আশ্রয় ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী বার্ট ফান ডেন ব্রিঙ্ক এমন একটি বিল উপস্থাপন করেছেন, যেখানে দেশ ছাড়ার নির্দেশ অমান্য করে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, যাদের দেশটিতে থাকার আইনগত অধিকার নেই এবং যারা তাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় বাধা দেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কার্যকর প্রত্যাবাসননীতি ছাড়া আশ্রয়ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তবে এটি একটি প্রস্তাবিত আইনি পদক্ষেপ। বিলটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও কার্যকর হওয়ার অবস্থা প্রকাশের আগে যাচাই করা প্রয়োজন।

আবাসনসংকট মোকাবিলায় জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা, আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত আবাসনে স্থানান্তর—এসব বিষয় এখন নেদারল্যান্ডসের আশ্রয়ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীত ঘনিয়ে আসায় দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।