ইটালির উপকূলে ১১৪ অভিবাসী
চার শিশুসহ সাতজনকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬
ইটালির সার্দিনিয়া দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে এক দিনে ১১৪ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। এ সময় পুলিশি অভিযানের আশঙ্কায় পাচারকারীরা সাত অভিবাসীকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে চারটি শিশু ছিল।
ইটালির বার্তা সংস্থা আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে সার্দিনিয়ার ক্যাপো স্পেরোন এলাকায় সাত অভিবাসীকে উদ্ধার করে দেশটির কোস্টগার্ড। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির আশঙ্কায় নৌকার চালকেরা তাঁদের পানিতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করেন।
পরে ওই অভিবাসীরা ক্যাপো স্পেরোনের পাথুরে উপকূলে আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁরা প্রায় দুই দিন অবস্থান করেন। এ সময় কয়েকজন সামান্য আহত হন।
বিভিন্ন উপকূলে অভিবাসীদের আগমন
একই দিন ভোরে ক্যাপো তেউলাদা এলাকায় আরও ১৩ জন পুরুষ অভিবাসী পৌঁছান। দোমুস দে মারিয়া এলাকার কিয়া উপকূলেও অভিবাসীদের আগমনের খবর পাওয়া যায়।
এ ছাড়া একটি ছোট নৌকায় থাকা নয়জন অভিবাসীকে ইটালির আর্থিক পুলিশ গার্দিয়া দি ফিনানজা শনাক্ত করে সান্ত’আন্তিওকো বন্দরে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, তেউলাদা সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকার ভেতর থেকে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়।
বিকেলে ক্যাপো তেউলাদা ও পোর্তো ত্রামাতজুর মধ্যবর্তী এলাকায় আরও তিনটি নৌকায় অভিবাসীদের আগমন ঘটে। এসব ঘটনায় মোট ৬০ জন উপকূলে পৌঁছান।
পরে সব অভিবাসীকে মনাস্তির অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই কেন্দ্রে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা
ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চল ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান অভিবাসনপথ। প্রতি বছর লিবিয়া, তিউনিসিয়া ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে হাজারো মানুষ ছোট নৌকায় করে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
এসব নৌকার অনেকগুলোই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার উপযোগী নয়। অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বিপজ্জনক আবহাওয়ার কারণে এই পথে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টার সময় ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৬৪৭ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫ জন।



