এবার কোরবানির ঈদের আকর্ষণ দিনাজপুরের ‘সম্রাট’
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬
ডাকলেই সাড়া দেয়, এমনকি ঘুরেও তাকায়। বিশালাকৃতির শান্ত স্বভাবের এই ষাঁড়টির নাম ‘সম্রাট’। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দিনাজপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে প্রায় ৩০ মণ ওজনের শাহীওয়াল-ফ্রিজিয়ান সংকর জাতের ষাঁড়টি।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের কয়লাখনি এলাকার মধ্যদুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক শখের বসে গরু লালন-পালন করেন। তাঁর খামারেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা ‘দিনাজপুরের সম্রাট’-এর। বিশাল আকৃতির এ ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
ধূসর রঙের সম্রাটের শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট। প্রায় দুই বছর আগে রাজ্জাকের খামারে একটি শাহীওয়াল জাতের গাভীর ঘরে এর জন্ম হয়। পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা থেকেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘সম্রাট’।
রাজ্জাকের ছোট ভাই মাহাবুবসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানের মতো করেই সম্রাটকে লালন-পালন করা হয়েছে। ‘সম্রাট’ নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয় এবং ঘুরে তাকায়। পরিবারের সবারই প্রাণীটির প্রতি গভীর মায়া তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যে সম্রাটকে দেখতে খামারে ভিড় করছেন ক্রেতা ও উৎসুক মানুষ। বিশাল আকৃতির কারণে হাটে নেওয়া কষ্টকর হওয়ায় বাড়ি থেকেই ষাঁড়টি বিক্রি করতে চান রাজ্জাক।
তিনি জানান, জন্মের পর থেকে সম্রাটকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এর খাদ্যতালিকায় রয়েছে খড়, ঘাস, ছোলা, মসুর ডাল, ভুষি, ভুট্টার আটা, চোপড়, খুদের ভাত, খৈল, ধানের গুঁড়া ও চিটাগুড়। এছাড়া মাঝে মধ্যে কাঁচাকলা, গাজর, আপেল, কাঁঠাল ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলও খাওয়ানো হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
সম্রাটের যত্নেও রয়েছে বাড়তি আয়োজন। তার থাকার স্থানে ২৪ ঘণ্টা পাখা চালু রাখা হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা হয়। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার গোসলও করানো হয়।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে গরুটিকে বড় করেছি। এখন ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চাই।”
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া এবং ১১টি দুম্বা। জেলার ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও পরিবার এসব পশু লালন-পালনে যুক্ত রয়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে উৎসাহিত করা হয়েছে।



