২০৩০ সালের মধ্যে চীনের ৮০ শতাংশ গাড়ি হতে পারে বৈদ্যুতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

চীনে দ্রুত বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট গাড়ির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়িতে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক পেট্রোলিয়াম সম্মেলনে এ তথ্য জানান চীনের রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি সিনোপেকের অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেয়ারি ওয়াং।

তিনি বলেন, দশকের শেষ দিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ার গতি কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে ততদিনে গাড়ির বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সিনোপেকের হিসাবে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ায় চলতি বছর চীনে তেলের চাহিদা প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন কমতে পারে। দৈনিক হিসাবে এটি প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেলের সমান।

ওয়াংয়ের হিসাবে, বৈদ্যুতিক গাড়ির কারণে কমে যাওয়া তেলের চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পেট্রোলচালিত গাড়ি থেকে এবং এক-তৃতীয়াংশ ডিজেলচালিত গাড়ি থেকে এসেছে। ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমছে।

দ্রুত বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ি

চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার। দেশটিতে গত জুলাইয়ে মোট গাড়ির ৬৫ শতাংশ ছিল বৈদ্যুতিক বা চার্জযোগ্য হাইব্রিড গাড়ি। গত বছর এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ এবং ২০২০ সালে মাত্র ৫ শতাংশ।

সিনোপেকের হিসাবে, এসব পরিসংখ্যানে শুধু ব্যাটারিচালিত গাড়ি নয়, বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়া যায় এমন হাইব্রিড গাড়িও অন্তর্ভুক্ত। ওয়াং জানান, চীনের গণপরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় সব গাড়িই এখন বিদ্যুৎচালিত।

চার্জিং অবকাঠামো বড় কারণ

চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ার পেছনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি দেশজুড়ে ব্যাপক চার্জিং অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে চীনে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ চার্জিং কেন্দ্র রয়েছে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যক্তিগত বা বাড়িভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা। বাকি এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত।

বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও অন্যান্য এলাকাতেও চার্জিং সুবিধা ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘ পথ চলার সময় চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমেছে। ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।

প্রভাব পড়তে পারে তেলের বাজারে

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। দেশটির পরিবহন খাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমতে থাকলে ভবিষ্যতে অপরিশোধিত তেলের চাহিদাতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সিনোপেকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ গাড়ি বৈদ্যুতিক হয়ে উঠলে দেশটির জ্বালানি চাহিদায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাব চীনের গাড়ির বাজার ছাড়িয়ে বৈশ্বিক তেলবাজারেও পড়তে পারে।