শুরু হলো ঈদযাত্রা, সড়ক-রেল-নৌপথে বিশেষ প্রস্তুতি
৯৪ ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে নজরদারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন যাত্রীরা। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। যানজটপ্রবণ ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলপথের ঈদযাত্রা শুরু হয়। একই সময় বিআরটিসি ও বেসরকারি পরিবহনের বাস বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়। সদরঘাট থেকেও নির্ধারিত সময়ে দেশের বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
সড়কপথে বিশেষ ব্যবস্থা
ঈদ উপলক্ষে গত ১৭ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। আজ থেকে তাদের ‘ঈদ বিশেষ সেবা’ চালু হয়েছে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করছে।
এ ছাড়া গ্রিন লাইন, সোহাগ, হানিফ, শ্যামলী, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন ও দেশ ট্রাভেলসসহ প্রায় সব বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠানও অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও তৈরি পোশাক বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
৯৪ ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত
ঈদ সামনে রেখে দেশের সাতটি প্রধান মহাসড়কে যানজটপ্রবণ ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ২৫টি করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৮টি, ঢাকা-আরিচায় ৭টি, ঢাকা-ময়মনসিংহে ৭টি এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা টোলপ্লাজা, যমুনা সেতু টোল এলাকা, কাঞ্চন সেতু, কাঁচপুর, বাইপাইল, নবীনগর ও গাজীপুর চৌরাস্তা।
ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজা ও যানজটপ্রবণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু, মেঘনা সেতু, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও হানিফ ফ্লাইওভার এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, সড়ক মেরামত, টোলপ্লাজায় অতিরিক্ত চাপ ও বিকল যানবাহনের কারণে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আগাম পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
রেলপথে ১০ বিশেষ ট্রেন
ঈদের আগের যাত্রার সব অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি শেষ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এবারও সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঁচ দিনে মোট ২১৮টি ট্রেন চলবে। দিনে গড়ে ৪৩টি ট্রেন ঢাকা ছাড়বে।
ঈদ উপলক্ষে ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে চাঁদপুর ঈদ বিশেষ, তিস্তা ঈদ বিশেষ ও পার্বতীপুর ঈদ বিশেষ ট্রেন নির্ধারিত রুটে চলাচল করবে। শোলাকিয়া ঈদ বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে।
বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধে ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ বড় স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্টেশনে প্রবেশের সময় যাত্রীদের টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নৌপথে বাড়তি সতর্কতা
ঈদ সামনে রেখে নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ।
চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে ট্রলার বা নৌকা থেকে যাত্রী ওঠানামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেবল নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার করেই যাত্রী ওঠানামা করা যাবে।
সদরঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাটে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের যাত্রা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লঞ্চ ও ফেরি সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে সরকার
সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, “ঘরমুখো প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশুর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি বলেন, “মহাসড়কের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। জনগণ সচেতন থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”



