ইরানকে ‘শক্তিশালী ও অহংকারী’ আখ্যা, চুক্তি ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়: ট্রাম্প
এনবিসি নিউজে ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতারা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’, যার কারণে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, “তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে, যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি। কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতেই হবে। তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ছাড়া এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
দ্রুত চুক্তির দাবির সমালোচনা
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত চুক্তির আহ্বানকারীদেরও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের কূটনৈতিক সমাধান “বছরের পর বছর” সময় নেয়।
তিনি বলেন, “এসব বিষয়ে (চুক্তি করতে) বছরের পর বছর লেগে যায়।”
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা
চলমান পরিস্থিতির সময়কালকে তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি ক্ষমতায় “মাত্র তিন মাস” আছেন এবং এত অল্প সময়ে ফল প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক।
ট্রাম্প বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল, অথচ এখনই তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দাবি
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এখনো কিছু সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা “প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ” রয়ে গেছে।
উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাত
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত এপ্রিলে দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলা–পাল্টা হামলার ফলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে।
‘চুক্তি না হলে অন্য পথ’
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র “অন্য পথ” বেছে নেবে, যা ভালো কিছু হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমরা কি একটি চুক্তি করব, নাকি অন্য পথে হাঁটব—আর সেই পথ মোটেও ভালো কিছু হবে না।”
অবরোধ ও সামরিক অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসকে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত “অপারেশন এপিক ফিউরি” শেষ হয়েছে এবং এটি মূলত আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।



