তাপে পুড়ছে ৪০ জেলা, বিপর্যস্ত জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের একটি বড় অংশে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। প্রচণ্ড রোদ আর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সর্বত্রই বিরাজ করছে তীব্র গরম। ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি, প্রখর রোদে পথঘাট সবকিছুই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষ। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় কমেছে রিকশাচালক ও হকারদের দৈনিক আয়। প্রচণ্ড গরমে মানুষের পাশাপাশি হাঁসফাঁস করছে প্রাণিকুলও।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ৪০টি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এর মধ্যেই দেশের চার বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি এবং তিন বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
চলমান তাপপ্রবাহের চিত্র:
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী— ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায়, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃষ্টি ও মৌসুমী বায়ুর পূর্বাভাস:
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজ করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার (৩ দিন) মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু (বর্ষা) টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে—
-
চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
-
সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
-
দেশের অন্যান্য অংশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুমিল্লায়, ৫৪ মিলিমিটার। চলমান তীব্র গরম থেকে বাঁচতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।



