ইউক্রেনে বড় হামলা চালালো রাশিয়া

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দনিপ্রোর মতো প্রধান শহরগুলোতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে চালানো এই সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মস্কো বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় এই হামলা চালানো হলো।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাতভর রুশ হামলায় কিয়েভেই অন্তত চারজন নিহত এবং শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশ ধসে পড়েছে, যার ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ওবোলন জেলাসহ শহরের কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে হামলা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গদি নিয়ে কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে ছুটে যান।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডনিপ্রো এবং আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও রুশ হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

এর আগের রাতেই এক ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, “রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা বহাল রয়েছে। তারা বড় হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীও ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।”

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে কিয়েভে এই ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালানো হয়েছে। যদিও ইউক্রেন ওই ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও ইউক্রেনীয় হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। এছাড়া বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন আঘাতে ১১ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা রাতভর ইউক্রেনের মোট ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল নৌঘাঁটির ওপর ড্রোন হামলার চেষ্টাও প্রতিহত করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর চার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন ইউক্রেন পরিস্থিতির চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মোকাবিলায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।