মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, আসতে পারে শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে একটি সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে সরকারপ্রধান প্রথম সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। কুয়ালালামপুর সফর শেষে ২৩ থেকে ২৬ জুন তিনি চীন সফরে যাবেন।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারপ্রধানের এই সফরে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবার চালুর ঘোষণা আসতে পারে।

শ্রমবাজার চালুর জোর ইঙ্গিত

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দ্রুতই শ্রমবাজার খোলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, “শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০-১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।” তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বরদাস্ত করা হবে না এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

অতীতের বন্ধ ও জটলার ইতিহাস

  • ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বন্ধ: দুর্নীতির অভিযোগ ও সিন্ডিকেটের কারণে ২০০৮ এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে শ্রমবাজার বন্ধ হয়।

  • ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ: ২০২২ সালে বাজারটি আবার খুললেও ২০২৪ সালের মে মাসে মালয়েশিয়া সরকার কর্মী ঢোকার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর থেকে বাজারটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দফায় দফায় চেষ্টা করেও এই জট খোলা সম্ভব হয়নি।

সিন্ডিকেট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

দুই বছর পর শ্রমবাজার খোলার এই আভাস রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মনে যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি তৈরি করেছে উদ্বেগও। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধন না করলে আবারও পুরোনো বিতর্কিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে।”

অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, “বাজারটি খোলার প্রক্রিয়া যেন টেকসই হয়। আগের চুক্তির ফাঁকফোকরগুলো যাচাই-বাছাই করে নতুন করে চুক্তি সাজানোর পর বাজার খুললে তা সবার জন্য ভালো হবে।”

রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা ও শর্ত

২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০টি বাধ্যতামূলক শর্তের ভিত্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চেয়েছিল। এর মধ্যে গত ৫ বছরে ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা ও ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস থাকার মতো কিছু কঠিন শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের ২ হাজার ৫০০টি বৈধ এজেন্সির মধ্য থেকে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়া সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের অন্যান্য ইস্যু

কুয়ালালামপুর সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অভিবাসন ও শ্রমবাজার ইস্যুর পাশাপাশি এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট এবং আসিয়ান জোটে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে।