রেমিট্যান্সের গতি কমেছে, তিন মাসে প্রবৃদ্ধি ১৩.৩ শতাংশ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ সেপ্টেম্বরে ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি ডলার বা ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবুও মাসিক হিসাবে প্রবাহের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেপ্টেম্বরসহ টানা চার মাস ধরে মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। এর আগে আগস্টে দেশে এসেছিল ২.৯৬ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।

আগস্টে প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছিল। জুলাইয়ের তুলনায়ও আগস্টে প্রবাহে উন্নতি হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বরে সেই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে মাসিক প্রবৃদ্ধির ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে শ্লথ হয়েছে।

তিন মাসে রেমিট্যান্স ৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার

তবে সামগ্রিক চিত্র এখনো ইতিবাচক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এসেছিল ৭.৫৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রান্তিকভিত্তিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, তিন মাসের মোট হিসাব শক্তিশালী থাকলেও মাসভিত্তিক প্রবাহে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান রেমিট্যান্স বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এর অন্যতম কারণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করেন। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সরাসরি প্রভাবিত হয়।

তাদের দাবি, মে মাস থেকেই প্রত্যাশিত মাত্রার নিচে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধীরগতি অব্যাহত থাকতে পারে।

বৈদেশিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ রেমিট্যান্স

ব্যাংকাররা বলছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। রপ্তানি আয়ে চাপ এবং আমদানি ব্যয় বেশি থাকার মধ্যে প্রবাসী আয় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষ করে আমদানি বিল ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে রেমিট্যান্স বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এ কারণে প্রবাহে দীর্ঘমেয়াদি ধীরগতি অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ব্যাংকার ও এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালকদের মতে, আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের গতি নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার কতটা স্থিতিশীল থাকে তার ওপর। পাশাপাশি প্রবাসীরা কতটা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠান, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাদের আশা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়লে রেমিট্যান্স প্রবাহ আবারও শক্তিশালী ধারায় ফিরতে পারে।