শ্রমিকের বেতন আটকালেই সতর্কবার্তা, এরপর ব্যবস্থা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মীদের বেতন পরিশোধে দেরি করলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (মোহরে)।
তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। সরকারের ভাষ্য, এতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।
মোহরে জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের ওপর কোনো অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, মানসম্মত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রথমে ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বেতন পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধে বিলম্ব শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন ও সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।
এর পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে ধাপে ধাপে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শুরুতেই বেতন পরিশোধে অনিয়ম শনাক্ত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত তা সংশোধনে উৎসাহিত করা। এতে কর্মীদের পাওনা বেতন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, আগাম হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সুস্থ কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
শ্রমঘন খাতে বাড়বে নজরদারি
বিশেষ করে শ্রমঘন খাতগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। এর মধ্যে নির্মাণ, পরিবহন, নিরাপত্তা সেবা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মোহরে জানিয়েছে, প্রতিটি খাতের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতায় যেসব খাতের প্রভাব বেশি, সেসব ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি নজরদারি থাকবে।
দেশটির মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে প্রতি মাসে ৩৭ বিলিয়ন দিরহামের বেশি বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে আমিরাতের শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেতন পরিশোধে বিলম্ব ঠেকাতে আরো কার্যকর নজরদারি চালু হলে কর্মীদের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোও সময়মতো বেতন পরিশোধে আরো সচেতন হবে।
মোহরের ভাষ্য, সর্বশেষ এই উদ্যোগ কর্মীদের সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতেও সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক দক্ষ ও মেধাবী কর্মীদের কাছে আমিরাতের শ্রমবাজারকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে বেতন পরিশোধ বিদেশি কর্মীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে আমিরাত সরকারের আরেকটি পদক্ষেপ।



