ভূমধ্যসাগরে মানব পাচার ঠেকাতে ন্যাটোর ভূমিকা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মানব পাচার ও অভিবাসীদের শোষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও বিস্তৃত ও মানবকেন্দ্রিক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এক বিশ্লেষণে। এতে বলা হয়েছে, শুধু সামুদ্রিক নজরদারি নয়, মানবাধিকার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকেও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘সিকিউরিং দ্য মেডিটেরেনিয়ান: হিউম্যান ট্রাফিকিং অনবোর্ড ভেসেলস অ্যান্ড ন্যাটোস রোল অ্যান্ড রেসপন্স’ শীর্ষক বিশ্লেষণে এ কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে পশ্চিম ইউরোপে ব্যবহৃত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে অঞ্চলটি বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রেক্ষাপটে ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটির ‘অপারেশন সি গার্ডিয়ান’ কর্মসূচির আওতায় সমুদ্রপথে নজরদারি, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, তথ্য বিনিময় এবং অংশীদার দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করা হয়। পাশাপাশি ফ্রন্টেক্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার সাথে সহযোগিতাও রয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে মানব পাচারের ক্ষেত্রে পাচারকারীরা প্রায়ই সংকটাপন্ন অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে তাদের শোষণের শিকার করা হতে পারে।

এ কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে শুধু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয় হিসেবে না দেখে মানব নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকের মতে, ন্যাটোর ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ (ডব্লিউপিএস) কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে সমন্বয় আরও জোরদার করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সামরিক নজরদারি যথেষ্ট নয়। মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানব পাচারবিরোধী ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এসব উদ্যোগের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।