সৌদির নিরাপত্তায় তুরস্ক-পাকিস্তান, সক্রিয় হলো মক্কা চুক্তি

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। রিয়াদে সোমবার অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ বহিঃশত্রুর হামলার শিকার হলে অন্য দুই দেশ যৌথভাবে তার সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবারই প্রথম এর প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলো।

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এই চুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এতে ন্যাটোর অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি তুরস্ক, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব একই প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় এসেছে।

সোমবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে সৌদি ভূখণ্ড এবং পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে যৌথ বিবৃতিতে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে তিন দেশ বলেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকি তারা তাৎক্ষণিকভাবে ও কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

এরপর যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা এবং সৌদি ভূখণ্ডে দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনারা ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবে বা তাদের সামরিক ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর, তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা।

গত সেপ্টেম্বরেও হুতিরা নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর জবাবে সোমবার রিয়াদ-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতিদের দখলে থাকা অঞ্চল পুনর্দখলে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এসব এলাকার কিছু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।