ভুল পথে হংকং, চীনের হাতে পৌঁছাল এফ-৩৫-এর যন্ত্রাংশ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬
একটি সতর্কতামূলক ই-মেইল নজরে না আসায় আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি চীনের হাতে পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে আমেরিকায় জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
ব্লুমবার্গের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, একটি চালানে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ককপিটের ক্যানোপি ও অস্ত্র রাখার বগির দরজা ছিল। এসব যন্ত্রাংশে রাডার তরঙ্গ শোষণকারী বিশেষ উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা এফ-৩৫-এর স্টেলথ সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চালানটির সঙ্গে হংকং হয়ে এসব যন্ত্রাংশ পরিবহন না করার বিষয়ে সতর্কতাও দেওয়া হয়েছিল।
ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান ডিএসভি এ/এস ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিসকে (ইউপিএস) ই-মেইলের মাধ্যমে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তবে ইউপিএসের সংশ্লিষ্ট কর্মী ওই বার্তাটি দেখতে পাননি বলে জানা গেছে।
একটি সূত্রের দাবি, ডিএসভির ই-মেইলটি ইউপিএসের কর্মীর ব্যবহৃত সিস্টেমের ভিন্ন একটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাটি সংশ্লিষ্ট কর্মীর নজর এড়িয়ে যায়।
চালানটি মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান হয়ে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে চালানটি ছাড়তে দেরি হওয়ায় দ্রুত সরবরাহের জন্য সেটি ভুল করে হংকংয়ের পথে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এফ-৩৫ বিমানের এসব যন্ত্রাংশ গত মে মাসের শেষ দিকে সম্ভাব্য মেরামত বা ধ্বংসের জন্য আমেরিকায় পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু হংকংয়ে পৌঁছানো দুটি যন্ত্রাংশের গায়ে রাডার-শোষণকারী উপাদান ছিল।
ঘটনাটি নিয়ে পেন্টাগন ও আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর তদন্ত করছে। আমেরিকার আইনপ্রণেতারাও অস্ত্র সরবরাহের বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এফ-৩৫ নির্মাতা লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট পরিবহন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে।



