দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ৫ হাজার আটক, অস্থায়ী বন্দিশিবির স্টেডিয়াম
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারী ও আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়। দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটকের কথা বলা হয়েছে। তবে এএনআইয়ের প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা প্রায় এক হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আটক হন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি জানিয়ে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে।
গত শুক্রবার রাত থেকেই বিক্ষোভকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। তবে বিক্ষোভ ঠেকাতে আগে থেকেই সক্রিয় ছিল পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে যাত্রা করা বাস এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি ও কাব্য কর্ণাটককেও আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, নেতা এমভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাতসহ কয়েকজন রাজনীতিককে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
মুম্বাইয়ে আটক করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধীকেও।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টি অপারেশনাল জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনে নির্দিষ্ট আটককেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন স্টেডিয়ামকেও অস্থায়ী আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনকে নিয়মিত যাচাইপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।



