দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, প্রতিবাদের জন্য নতুন ৩ স্থান নির্ধারণ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ বা অবস্থান কর্মসূচি পালন করা যাবে না। প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বিকল্প হিসেবে তিনটি স্থান নির্ধারণ করেছে দিল্লি পুলিশ। নতুন স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এত দিন দিল্লির উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত যন্তর মন্তর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে আর কোনো বিক্ষোভ বা অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে না।
দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন নির্ধারিত তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সংশোধিত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) জারি করা হবে। এসব স্থানে কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে।
নতুন নির্দেশনাটি ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি করা পুলিশের একটি স্থায়ী নির্দেশ সংশোধন করেছে। ওই নির্দেশনায় যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্ত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের সময় এ সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
সম্প্রতি যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সিজেপির নেতারা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট স্থানের দাবি জানান। এর পরই পুলিশের নতুন নির্দেশনা জারি হয়।
যন্তর মন্তর দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত। সেখানে বড় জমায়েত হলে যান চলাচল, জননিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিকল্প স্থান নির্ধারণের পেছনে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টও যন্তর মন্তরের বিকল্প হিসেবে অন্য স্থান খুঁজে বের করার কথা জানিয়েছিল। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও নাগরিক পরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লিতে রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। তবে বিকল্প স্থানগুলোতে বিক্ষোভ করতে হলে আয়োজকদের নির্ধারিত অনুমতি ও নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হবে।



