ইরানে আমাদের হামলা করা উচিত হয়নি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সামরিকভাবে জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, নয় মাস আগে মার্কিন বাহিনী পদক্ষেপ না নিলে ইরান এতদিনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার লাইভ আপডেটের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক নীতি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অতীতের সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন:
“ইরাকের দিকে তাকান, আমাদের কত বড় ক্ষতি হয়েছে। আমরা কী যে এক বোকামি করেছি! আমাদের আসলে প্রথমেই সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি। আমাদের ইরানেও যাওয়া উচিত হয়নি, কিন্তু ইরানের সেই (পারমাণবিক) সক্ষমতা রয়েছে।”
“৯ মাস আগের হামলায় রক্ষা পেয়েছে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য”
অতীতের সমালোচনা করলেও নয় মাস আগে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “নয় মাস আগে আমরা যদি বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর আঘাত না হানতাম, তবে তাদের হাতে এখন পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। হয়তো আজ ইসরায়েল থাকত না, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যেরও কোনো অস্তিত্ব থাকত না; তারপর সেখান থেকে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকত?”
ইরানের সামরিক বাহিনীকে এড়ানোর দাবি
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ইরানের সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেনি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন:
-
মধ্যপন্থী অংশ: মার্কিন প্রশাসন মনে করে ইরানের সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী, তাই তাদের কিছুটা এড়িয়ে চলা হয়েছে।
-
অন্যান্য অংশকে নিশানা: ইরানের যে অংশগুলো মধ্যপন্থী নয়, মূলত সেগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) করা হয়েছিল।
অতীতের যুদ্ধনীতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, অতীতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে ধ্বংস করার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। তার ভাষায়, “যুদ্ধের সময় সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার ফলে এমন একটি দেশ তৈরি হয়, যা ৪০ বছরেও পুনর্গঠন করতে পারে না।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।



