রামিসা হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার সোহেলের, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্কের (আর্গুমেন্ট) জন্য তারিখ ধার্য করেছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে যা ঘটলো

আজ সকালে কড়া নিরাপত্তায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এই মামলার সকল সাক্ষীর জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং তাঁর কিছু বলার আছে কি না জানতে চান।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা নিজের আংশিক অপরাধ স্বীকার করে বলেন:

“আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল—ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।”

পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী ও মামলার অন্যতম আসামি স্বপ্না আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।”

এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড

  • ২৪ মে ২০২৬: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন।

  • ১ জুন ২০২৬: ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।

  • ২ জুন ২০২৬: মাত্র এক দিনের ব্যবধানে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আগামীকাল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পদার্পণ করবে।