সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, হেসেখেলে চললে বড় ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৬
দেশের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই সময়কে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, সামনে এমন একটি সময় আসছে, যেখানে দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা এবং পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই।
রোববার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সামনে একটি অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ও। এই গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়কে যদি আমরা হেসেখেলে পার করে দিতে চাই, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতি শুধু একটি দলের হবে না, ক্ষতি হবে দেশের, ক্ষতি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।”
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আদর্শ, পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তা সামনে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতাই অনুসরণ করছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে বিএনপি তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জনগণের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে পরিকল্পনা ও ইশতেহার তুলে ধরেছিলাম, দেশের মানুষ তা দেখেছে, শুনেছে এবং বুঝেছে। এরপর তারা ভোটের মাধ্যমে আমাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে। তাই এটি আর শুধু বিএনপির ইশতেহার নয়, এটি এখন জনগণের ইশতেহার।”
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব।
শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরলেন তারেক
বক্তব্যের একপর্যায়ে পিতা জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ছোটবেলায় একবার বাড়ির একজন কর্মচারীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করলে জিয়াউর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে তাকে সেই কর্মচারীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, “সেদিনের ঘটনাটি আমার জীবনে বড় শিক্ষা হয়ে আছে। মানুষের প্রতি সম্মান, বিনয় এবং সহমর্মিতা পরিবার থেকেই শেখানো উচিত। দেশে ফিরে আমি উপলব্ধি করেছি, আমাদের সমাজে এই মূল্যবোধগুলোর কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরে জিয়ার পরিচিতি
শহীদ জিয়াউর রহমানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৬ সালে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে এক ইন্দোনেশীয় নাগরিক বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ‘জিয়াউর রহমান’ নামটি উচ্চারণ করেছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, “সন্তান হিসেবে তখন আমি গর্ব অনুভব করেছিলাম। অনেক মানুষ বাংলাদেশ এবং শহীদ জিয়াকে একই পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখতেন। এটি তার আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও জনপ্রিয়তার একটি প্রতিফলন ছিল।”
ইশতেহারে জিয়ার দর্শনের প্রতিফলন
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রচিন্তাকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষার প্রসার, নতুন শিল্পায়ন, বন্ধ কল-কারখানা চালু, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলো সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, শুধু মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য তৃণমূল পর্যন্ত দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “সারা দেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি জনগণের পাশে থেকে কাজ করেন, তাহলেই আমাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।”
শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ পরিবর্তনের যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে, এখন সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সফল সরকার পরিচালনা করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারি, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে পারি এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি, তাহলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে।”



