কানাডায় পিআর পাওয়ার সহজ পথ বন্ধ, নতুন নিয়মে কী বদলাচ্ছে?

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২৬

কানাডার ষষ্ঠ বৃহত্তম প্রদেশ ম্যানিটোবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অন্যতম জনপ্রিয় পথ ক্যারিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পাথওয়ে (CEP) বন্ধ করে দিয়েছে।  ১১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রদেশটিতে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বসবাস (Permanent Residency) অর্জনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এতদিন ম্যানিটোবা প্রভিনশিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম (MPNP)-এর আওতায় থাকা ক্যারিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পাথওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি করেছিল।  নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে আবেদনকারীদের অন্তত ছয় মাসের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।  এরপর তারা স্কিলড ওয়ার্কার ইন ম্যানিটোবা পাথওয়ে-এর মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ম্যানিটোবা সরকারের ভাষ্য, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্পষ্ট ও সমন্বিত একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।  শিক্ষা, কর্মদক্ষতা এবং স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।  প্রদেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, যারা পড়াশোনা শেষে স্থানীয় অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে বাস্তব অবদান রাখছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে সব পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। গ্র্যাজুয়েট ইন্টার্নশিপ পাথওয়ে (GIP) এখনো চালু রয়েছে।  এই কর্মসূচি মূলত মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা Mitacs-এর অধীনে অনুমোদিত গবেষণা বা ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন।  তারা আগের মতোই এই পথ ব্যবহার করে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।

এদিকে, যারা ইতোমধ্যে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (EOI) জমা দিয়েছেন, তাদের আবেদন বাতিল করা হচ্ছে না।  বরং নতুন নীতির আওতায় তাদের প্রোফাইল স্কিলড ওয়ার্কার ইন ম্যানিটোবা ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হবে।  ভবিষ্যতের ড্রগুলোতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীদের প্রোফাইল সক্রিয় রাখতে হবে এবং ম্যানিটোবায় অর্জিত শিক্ষা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ করতে হবে।

নতুন এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।  বিশেষ করে যারা পড়াশোনা শেষ করেই দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  কারণ এখন তাদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে স্থানীয় চাকরির বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হবে।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যানিটোবার এই সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়।  সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনছে।  এর লক্ষ্য হলো এমন আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া, যারা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জনশক্তি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নতুন নীতির ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ কিছুটা কঠিন হলেও এটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি।  বরং এখন শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

সব মিলিয়ে, ম্যানিটোবার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।  এখন থেকে শুধু ডিগ্রি অর্জন করাই যথেষ্ট হবে না; স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের স্থানীয় শ্রমবাজারে নিজেদের দক্ষতা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার প্রমাণও দিতে হবে।  ফলে চ্যালেঞ্জ বাড়লেও দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রদেশটির অভিবাসন নীতি আরও লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে উঠবে।