পূর্ণ অর্থায়নে জার্মানিতে পড়ার সুযোগ

ফ্রেইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্যাড-ইপোস স্কলারশিপ ২০২৭

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২৬

উন্নয়নশীল দেশের তরুণ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার একটি আকর্ষণীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে ড্যাড-ইপোস (DAAD-EPOS) স্কলারশিপ ২০২৭।  এই স্কলারশিপের আওতায় জার্মানির ফ্রেইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন এনভায়রনমেন্টাল গভর্ন্যান্স (MEG) প্রোগ্রামে পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা।

জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস (DAAD) পরিচালিত এই স্কলারশিপ মূলত উন্নয়নশীল দেশের দক্ষ তরুণ পেশাজীবীদের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশনীতি ও সুশাসন বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়।

কী এই এমইজি (MEG) প্রোগ্রাম?

ফ্রেইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সাল থেকে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে।  দুই বছরের এই কোর্স সম্পূর্ণ ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত হয়।

এখানে পরিবেশবিজ্ঞান, গভর্ন্যান্স, অর্থনীতি, নীতি নির্ধারণ এবং সামাজিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হয়।  প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী এই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

কোর্স সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বেসরকারি খাতে কাজের সুযোগ পান।

স্কলারশিপে কী কী সুবিধা মিলবে?

ড্যাড-ইপোস স্কলারশিপের আওতায় সাধারণত শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকেন—

  • সম্পূর্ণ টিউশন ফি সুবিধা
  • মাসিক জীবনযাপন ভাতা
  • স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা
  • ভ্রমণ ব্যয় সহায়তা
  • গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমে অতিরিক্ত সহায়তা

তবে চূড়ান্ত সুবিধা ও শর্তাবলি ড্যাডের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

আবেদনের যোগ্যতা

স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে।
  • ডিগ্রি অর্জনের সময়সীমা সাধারণত সর্বোচ্চ ছয় বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • একাডেমিক ফলাফল গড়ের চেয়ে ভালো হতে হবে।

কাজের অভিজ্ঞতা

  • ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর কমপক্ষে দুই বছরের প্রাসঙ্গিক পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

তবে—

  • ইন্টার্নশিপ
  • স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ

সাধারণত পেশাগত অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা গবেষণার কাজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য না হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যান্য শর্ত

  • আবেদনকারীর জার্মানিতে অবস্থানের মেয়াদ আবেদনপূর্ব ১৫ মাসের বেশি হওয়া যাবে না।
  • আগে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করলেও আবেদন করা যাবে।  তবে দ্বিতীয়বার মাস্টার্স করার প্রয়োজনীয়তা এবং তা কীভাবে পেশাগত উন্নয়ন ও নিজ দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

আবেদন শুরু ও শেষ কবে?

২০২৭ সালের অক্টোবর সেশনের জন্য ড্যাড-ইপোস স্কলারশিপে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২০২৬ সালের ১৫ জুন থেকে।

আবেদনের শেষ সময়: ১৫ অক্টোবর ২০২৬

অন্যদিকে নিয়মিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে ১৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত।  তবে স্কলারশিপের জন্য আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

কেন এই স্কলারশিপ গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।  এই প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানই নয়, বাস্তব নীতি নির্ধারণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করে।

ড্যাড-ইপোস স্কলারশিপের মাধ্যমে অর্জিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও উচ্চতর শিক্ষা ভবিষ্যতে নিজ দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

যারা পরিবেশ, জলবায়ু, উন্নয়ননীতি বা সুশাসন বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে জার্মানিতে পূর্ণ অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার একটি চমৎকার সুযোগ।