দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ চালু করছে আর্জেন্টিনা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথমবারের মতো ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ বা বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।  ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই কর্মসূচি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটির দরজা আরও উন্মুক্ত করবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ডিক্রি ৫২৪/২০২৫ স্বাক্ষরের মাধ্যমে কর্মসূচিটির আইনি ভিত্তি তৈরি করেন।  এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্জেন্টিনাকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নাগরিকত্ব অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে।  বাস্তবায়ন হলে এটি বিশ্বের দ্রুততম নাগরিকত্ব-বিনিয়োগ কর্মসূচিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের জনপ্রিয় গোল্ডেন পাসপোর্ট প্রোগ্রামগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে।

বর্তমানে আর্জেন্টিনার পাসপোর্ট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।  এর মাধ্যমে ১১৪টির বেশি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করা যায়।  পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার অর্থনৈতিক জোট মার্কোসুরভুক্ত দেশগুলো—ব্রাজিল, উরুগুয়ে, চিলি, কলম্বিয়া, পেরু ও ইকুয়েডরে বসবাস, কাজ এবং ভ্রমণের অতিরিক্ত সুযোগ পাওয়া যায়।

যদিও সরকার এখনো বিনিয়োগের ন্যূনতম পরিমাণ কিংবা নির্দিষ্ট খাত ঘোষণা করেনি, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশ্লেষকের ধারণা, প্রযুক্তি, পর্যটন, অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।  পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ক্রয়, সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ কিংবা স্থানীয় ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগের সুযোগও কর্মসূচির অংশ হতে পারে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সাতটি ভিন্ন বিনিয়োগ ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ চলছে।  একই সঙ্গে একটি প্রি-অ্যাপ্রুভাল রেজিস্ট্রি তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনার কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিনিয়োগ গ্রহণের আগ্রহ নিবন্ধন করতে পারবে।  এর ফলে বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।

কর্মসূচিটির আরেকটি বড় সুবিধা হলো পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি।  প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধান বিনিয়োগকারীর সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।  ফলে এটি কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও নাগরিকত্বের সুযোগ তৈরি করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্জেন্টিনার এই উদ্যোগ দক্ষিণ আমেরিকার অভিবাসন ও বিনিয়োগ নীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।  বর্তমানে ইউরোপ, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে গোল্ডেন ভিসা বা গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি চালু থাকলেও দক্ষিণ আমেরিকায় এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম।

তবে কর্মসূচির চূড়ান্ত সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে বিনিয়োগের ন্যূনতম পরিমাণ, আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব প্রদানের শর্তাবলির ওপর।  এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশের পরই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও কর্মসূচির বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে এবং ২০২৭ সালের শুরুতেই প্রথম দফায় নতুন নাগরিকত্ব অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।