উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের দেশ জার্মানি: স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার সহজ গাইডলাইন
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬
ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ ও জনপ্রিয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য জার্মানি। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দেশটিতে পাড়ি জমান। জার্মান ভিসাসংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম ‘জার্মানি ভিসা’ (Germany Visa)-এর সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, জার্মান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক।
দেশটিতে বর্তমানে ১২ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি নিয়ে এই বিশেষ প্রতিবেদন:
জার্মানি স্টুডেন্ট ভিসার ধরণ ও খরচ
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ‘ডি’ (Type D) ভিসা দেওয়া হয়। এই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার দেশে যাতায়াত করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে এই ভিসার মেয়াদ সাধারণত দুই বছর থাকে, যা পড়াশোনার সুবিধার্থে পরবর্তী সময়ে আরও দুই বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ভিসা আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০,৭২৫ টাকা)।
আবেদনের যোগ্যতা
জার্মান স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রধান দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
-
ভর্তি নিশ্চিতকরণ: প্রথমে জার্মানির কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি কনফার্মড অফার লেটার বা ভর্তি নিশ্চিতকরণের প্রমাণপত্র পেতে হবে।
-
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (ব্লকড অ্যাকাউন্ট): জার্মানিতে অবস্থানকালীন নিজের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের সক্ষমতা দেখাতে হবে। এর জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ‘ব্লকড অ্যাকাউন্ট’ (Blocked Account)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ব্লকড অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ ২ হাজার টাকা) জমা থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে। তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ বা বৃত্তি পান, তবে বৃত্তির অফিশিয়াল নথি জমা দিলেই চলবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভিসা আবেদনের সময় মূল ফাইলের সাথে যেসকল নথিপত্র জমা দিতে হবে:
-
সম্পূর্ণ পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ভিসা আবেদনপত্র।
-
ন্যূনতম মেয়াদসহ বৈধ পাসপোর্ট এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
-
জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভর্তি অনুমতিপত্র (Admission Letter)।
-
পূর্ববর্তী সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও নম্বরপত্র (Transcript)।
-
ভাষাগত দক্ষতার সনদ (কোর্সের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী IELTS/TOEFL বা জার্মান ভাষা শিক্ষার সার্টিফিকেট)।
-
জার্মানিতে পৌঁছানোর প্রাথমিক সময়ের জন্য একটি ট্রাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা ভ্রমণ বীমা।
-
একটি আপডেট করা জীবনবৃত্তান্ত (CV) এবং চমৎকার একটি মোটিভেশন লেটার (SOP)।
-
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ (ব্লকড অ্যাকাউন্টের কনফার্মেশন স্লিপ বা স্কলারশিপের কাগজ)।
পড়াশোনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিসার প্রকারভেদ
জার্মানিতে পড়াশোনার উদ্দেশ্য ও কোর্সের ধরণের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টাডি ভিসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— পূর্ণকালীন একাডেমিক অধ্যয়নের ভিসা, উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জার্মান ভাষা কোর্সের ভিসা, স্টুডিয়েনকলেগ (Studienkolleg) বা প্রিপারেটরি কোর্সের ভিসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাধ্যতামূলক প্রাক-ইন্টার্নশিপ বা কাজের জন্য বিশেষ ভিসা।
আবেদন করার নিয়ম
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর নিজ দেশের জার্মান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। অনলাইন পোর্টাল বা দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সশরীরে গিয়ে ইন্টারভিউ ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হবে।
ভিসা ছাড়া যাওয়ার সুযোগ কাদের?
বিশ্বের যেসব দেশের নাগরিকদের জার্মানিতে প্রবেশে সাধারণ ভিসা লাগে না, তারা স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াই সরাসরি জার্মানিতে যেতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। তারা সরাসরি জার্মানিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় ফরেইনার্স অফিস (Foreigners Authority) থেকে রেসিডেন্স পারমিট বা আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়েই যাত্রা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিকটাইমস



