বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার

শিক্ষা ডেস্ক

শিক্ষা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এক বিশেষ ঋণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব এখন দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।  সরকার চায় দেশের তরুণরা কেবল সাধারণ ডিগ্রি না নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করুক।  তবে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েন।  তাদের আর্থিক বাধা দূর করতেই সরকার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।  এই ঋণের সুদের হার হবে তুলনামূলক কম এবং পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পর তা পরিশোধের সুযোগ থাকবে।  কোনো শিক্ষার্থী যেন এই ঋণ পেতে প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন, সরকার তা নিশ্চিত করবে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় কোনো বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।  এ লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।  এসব ভাষা শিখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা এই ১০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা পাবেন।  বিদেশে শিক্ষার্থীদের পাঠানোর এই উদ্যোগকে ‘ব্রেইন ড্রেন’ নয়, বরং ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ হিসেবে দেখছে সরকার, যা পরবর্তীতে দেশের উন্নয়ন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এবারের বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।  সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।  মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী কোনো না কোনো পেশাগত কাজে পারদর্শী হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে স্কুল ও কলেজগুলোতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।  একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিদেশের বিভিন্ন কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।