ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে মাঠে যুক্তরাজ্যের ২৪ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৬
ছাত্র ভিসা জালিয়াতি রোধে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির শীর্ষ ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোট, Russell Group। সংগঠনটির দাবি, কিছু বিচ্ছিন্ন প্রতারণার ঘটনায় এমন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়, যা প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
সম্প্রতি শিক্ষার্থী ভিসা স্পনসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও কঠোর কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাসেল গ্রুপ একটি তিন দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য, ছাত্র ভিসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখা।
প্রকৃত শিক্ষার্থীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ
রাসেল গ্রুপের মতে, যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিপুল অংশই বৈধ ও যোগ্য। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, স্থানীয় সমাজ এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সংগঠনটি আরও জানায়, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যেই যুক্তরাজ্য ত্যাগ করে।
তিন দফা প্রস্তাব
ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে রাসেল গ্রুপ যে তিনটি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো হলো—
১. তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাল নথি, আঞ্চলিক প্রতারণার প্রবণতা এবং রিক্রুটমেন্ট এজেন্টদের আচরণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য সরাসরি UKVI ডেটা অ্যাকসেস দেওয়া।
২. কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা
বর্তমান ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞার চেয়েও কঠোর শাস্তির বিষয় বিবেচনা করা।
৩. সরাসরি রিপোর্টিং চ্যানেল চালু
বিশ্ববিদ্যালয় ও UKVI-এর মধ্যে জালিয়াতি সংক্রান্ত সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু এবং সন্দেহভাজন আবেদনকারীদের তথ্য বিনিময়ের সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা।
‘ব্ল্যাঙ্কেট’ বিধিনিষেধের বিপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী Libby Hackett বলেন, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ছাত্র ভিসা নেওয়ার চেষ্টা পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সুযোগও সংকুচিত করে। তাই প্রতারণা ঠেকাতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগকে তারা সমর্থন করে।
ইতোমধ্যে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
ভিসা জালিয়াতি রোধে সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে বেশ কিছু অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- CAS (Confirmation of Acceptance for Studies) ইস্যুর আগে অতিরিক্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া;
- আবেদন মূল্যায়নে বাধ্যতামূলক দ্বিতীয় পর্যায়ের যাচাই;
- শিক্ষাগত সনদ সরাসরি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই;
- ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা;
- ব্যাংক ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আর্থিক নথিপত্র যাচাই।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এ প্রস্তাব সামনে এসেছে। একদিকে সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটির অর্থনীতি, গবেষণা ও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই প্রতারণা রোধের পাশাপাশি প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত রাখাও সমান জরুরি।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস ও প্রথম আলো



