অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা: নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি কিছু করণীয়
শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬
উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর নতুন পরিবেশ, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে ব্যাংক হিসাব খোলা, স্বাস্থ্যসেবা ও খণ্ডকালীন চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া—কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনকে অনেক সহজ করে তুলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি করণীয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও নিবন্ধন সম্পন্ন করা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রথম কাজই হলো নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে গিয়ে ভর্তি ও অনলাইন নিবন্ধন নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওরিয়েন্টেশন উইক’ বা পরিচিতিমূলক কার্যক্রমে অবশ্যই অংশ নিতে হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা এবং একাডেমিক নিয়মকানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, নতুন ঠিকানায় ওঠার সাত দিনের মধ্যে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় ব্যাংক হিসাব খোলা দৈনন্দিন খরচ, বাসাভাড়া পরিশোধ কিংবা খণ্ডকালীন চাকরির বেতন গ্রহণের জন্য দ্রুত একটি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা প্রয়োজন। এতে করে পকেটে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি ও বাড়তি খরচ কমে যায়। অনেক ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য কনসেশন বা ফি-মুক্ত অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিয়ে থাকে।
মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে বিমানবন্দর বা কাছাকাছি কোনো শপ থেকে দ্রুত একটি স্থানীয় সিম কার্ড ও সাশ্রয়ী মোবাইল প্ল্যান কিনে নেওয়া জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নোটিশ, অ্যাসাইনমেন্টের আপডেট এবং চাকরির খোঁজ পেতে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় গণপরিবহনব্যবস্থা ও ট্রাভেল কার্ড সম্পর্কে জানা অস্ট্রেলিয়ার একেক শহরে গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য আলাদা স্মার্ট ট্রাভেল কার্ড রয়েছে। যেমন— সিডনিতে যাতায়াতের জন্য ‘ওপাল কার্ড’ এবং পার্থে ‘স্মার্টরাইডার কার্ড’। পৌঁছানোর পরপরই এই কার্ড সংগ্রহ করে বাস, ট্রেন ও ফেরি চলাচলের রুট এবং সময়সূচি স্মার্টফোনে নামিয়ে নিলে যাতায়াত অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হয়।
ক্লাস শুরুর পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া মূল ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই নিজের কোর্স কাঠামো, বিষয়ভিত্তিক ক্রেডিট, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় রেফারেন্স বইপত্র সংগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনলাইন লার্নিং পোর্টাল ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া আবশ্যক।
আর্থিক বাজেট ও পার্ট-টাইম কাজের প্রস্তুতি আবাসন, খাদ্য ও যাতায়াত খরচ বিবেচনায় নিয়ে শুরুতেই একটি বাস্তবসম্মত মাসিক বাজেট তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া যেসকল শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করতে চান, তাঁদের দ্রুত অস্ট্রেলিয়ান সরকারের রাজস্ব বিভাগ থেকে ‘ট্যাক্স ফাইল নম্বর’ (TFN) সংগ্রহ করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং বা চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়ান বিজনেস নম্বর’ (ABN)-এরও প্রয়োজন হতে পারে।
স্বাস্থ্যবিমা ও মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওভারসিজ স্টুডেন্ট হেলথ কভার (OSHC) নিশ্চিত করতে হয়। তবে এখানে আসার পর নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) ও জরুরি যোগাযোগ নম্বরগুলো ফোনে সেভ করে রাখা উচিত। নতুন আবহাওয়ায় একাকীত্ব বা মানসিক চাপ দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং সেন্টারের সহায়তা নেওয়া এবং নিজেকে চাঙ্গা রাখতে খেলাধুলা বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখার প্রথম কয়েক সপ্তাহে এই মৌলিক বিষয়গুলো গুছিয়ে নিতে পারলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবন—উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত সাফল্য ও স্বাচ্ছন্দ্য আসে।



