ফ্রান্সে কড়া নজরদারি, কমেছে ব্রিটেনে ছোট নৌকায় অভিবাসী প্রবেশ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ব্রিটেনে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে উত্তর ফ্রান্সের উপকূলে যৌথ পুলিশি নজরদারি জোরদার করেছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। ডানকার্ক ও কালে শহরের আশপাশে প্রতিদিনই অভিবাসীদের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। তবে পুলিশের তৎপরতায় অনেকেরই সমুদ্রযাত্রার আগেই আটক হতে হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রায় ৪০ জন আফ্রিকান অভিবাসী ডানকার্কের একটি বাসস্টপ থেকে সমুদ্রের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা একটি অস্থায়ী শিবির থেকে এসেছিলেন। সৈকতে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। কয়েক ঘণ্টা অন্ধকারে লুকিয়ে থাকার পরও তারা সমুদ্রের কাছে যেতে পারেননি।
এ ধরনের ঘটনা এখন উত্তর ফ্রান্সের উপকূলে নিয়মিত হয়ে উঠেছে। ১৯৯০-এর দশক থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ ইউরোপের অভিবাসন সংকটের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
তবে চলতি বছর পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ছোট নৌকায় ব্রিটেনে আসা অভিবাসীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কমেছে। গত বছর একই সময়ে প্রায় ২৯ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় এসেছিলেন। চলতি বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০।
ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, উত্তর উপকূলে বাড়তি পুলিশি উপস্থিতি এই সংখ্যা কমার অন্যতম কারণ। এই নজরদারির ব্যয়ের বড় একটি অংশ ব্রিটেন বহন করছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, উত্তরাঞ্চলে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ফ্রান্স-ব্রিটেনের সহযোগিতা ফল দিচ্ছে।
উত্তর ফ্রান্সের উপকূল এখন দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে অভিবাসীরা সুযোগ পেলে নৌকায় ওঠার চেষ্টা করছেন, আর পুলিশ তাদের ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
বিষয়টি ব্রিটেনের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে নিয়মিত আলোচনা ও সমালোচনা হয়। অন্যদিকে ফ্রান্সের ওপরও চাপ রয়েছে, কারণ ব্রিটেনে যাওয়ার জন্য অনেক অভিবাসী দেশটির উত্তর উপকূলকে যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
যৌথ উদ্যোগে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংখ্যা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অভিবাসীরা এখনো সুযোগ খুঁজছেন এবং ফরাসি ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের যাত্রা ঠেকাতে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।



