কম সিজিপিএ নিয়েও আমেরিকায় মাস্টার্সের সুযোগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের ক্ষেত্রে কম সিজিপিএ থাকলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। তবে কম সিজিপিএ নিয়ে ভর্তি হওয়া এবং টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচসহ পূর্ণ ফান্ডিং পাওয়া এক বিষয় নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য বা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত যাচাই করা জরুরি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগভেদে ন্যূনতম সিজিপিএ এবং ফান্ডিংয়ের নিয়মে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ইস্ট বে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ২.৫ জিপিএর সমতুল্য ফল নির্ধারণ করেছে। তবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়।

ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম ২.৫ জিপিএ চাওয়া হলেও শিক্ষা-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে জিপিএ ২.৭৫-এর নিচে হলে বিশেষ আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। তবে আপিলের সুযোগ থাকা সরাসরি ভর্তির নিশ্চয়তা দেয় না।

আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শক সংস্থা এডুকেশনইউএসএ জানিয়েছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ছাড়ের পাশাপাশি ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বেশিরভাগ স্কলারশিপ মোট শিক্ষাব্যয়ের একটি অংশ বহন করে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা থাকলেই পূর্ণ ফান্ডিং নিশ্চিত হয় না।

এদিকে অনলাইনে আলোচিত ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল’ প্রচলিত ক্যাম্পাসভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়; প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। সেখানে টিউশন ফি না থাকলেও গ্র্যাজুয়েট কোর্সে অ্যাসেসমেন্ট ফি দিতে হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাপদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক খরচ সম্পর্কেও আগে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষাবিদদের মতে, কম সিজিপিএ থাকলেও শক্তিশালী গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) এবং ভালো সুপারিশপত্র আবেদনের সামগ্রিক মান বাড়াতে পারে। তবে এসব যোগ্যতা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ন্যূনতম সিজিপিএর শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না।

তাই আমেরিকায় মাস্টার্সে আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু ‘কম সিজিপিএতে ভর্তি’ বা ‘ফুল ফান্ডিং’—এমন প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ভর্তি, সিজিপিএ, ফান্ডিং এবং অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।