সেউতায় নতুন ক্যাম্প উপচে আবারও সৈকতে অভিবাসীরা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

স্পেনের সেউতায় আবারও তীব্র হয়েছে অভিবাসন সংকট। বন্দরে তৈরি নতুন অস্থায়ী ক্যাম্পে জায়গা না পেয়ে হাজারো অভিবাসী সৈকতে ফিরে গেছেন।

১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ট্রাম্পোলিন ও বেনিতেজ সৈকত থেকে অভিবাসীদের সরিয়ে নেয় স্পেনের সিভিল গার্ড ও জাতীয় পুলিশ। পরে তাদের বন্দরের নতুন অস্থায়ী ক্যাম্পে নেওয়া হয়। ক্যাম্পটির ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ জন। কিন্তু সেখানে পৌঁছান ৪ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে জায়গা না পেয়ে অনেকেই আবার সৈকতে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সেউতার রাস্তায় এখনো প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্যাম্পে জায়গা পাওয়াকে কেন্দ্র করে ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় আকাশে সতর্কতামূলক গুলিও ছোড়া হয়। তবে বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

অভিবাসীরা আবার সৈকতে ফিরে যাওয়ায় সেগুলো পরিষ্কার করার পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্পোলিন সৈকতে এখনো অস্থায়ী তাঁবু ও কুঁড়েঘর রয়েছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে সেউতায় বড় ধরনের অভিবাসী ঢল নামে। ওই সময় মরক্কো থেকে একসাথে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেন। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন সামলাতে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যাপক চাপের মুখে পড়তে হয়।

সেউতার স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সদস্য কিসি চন্দিরামানি বন্দরে অভিবাসীদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে বিশৃঙ্খল বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, শহর সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আগে কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি। তিনি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

চন্দিরামানি সতর্ক করে বলেন, প্রক্রিয়া দ্রুত করা না হলে সেউতা উত্তর আফ্রিকার ‘বড় সিইটিআই’ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন অভিবাসীর আবেদন বা মামলা প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। তার মতে, পর্যাপ্ত জনবল ও অন্যান্য সম্পদ থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে এই কাজ শেষ করা সম্ভব। তবে বর্তমান গতিতে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেউতায় নতুন করে তীব্র হওয়া এই সংকটে জায়গার অভাব, শৃঙ্খলা রক্ষার সমস্যা এবং ধীরগতির প্রক্রিয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন জায়গা ও সৈকতে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন বিপুলসংখ্যক অভিবাসী।