কাজ করেও নিশ্চিত নয় ভিসা, অস্ট্রেলিয়ায় নতুন নিয়মে লটারি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাকপ্যাকারদের জন্য ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট সময় কাজ করলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছরের ভিসার সুযোগ পাওয়া যেত। তবে নতুন নিয়মে তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য লটারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবার মাত্র ৫ হাজার ভিসা দেওয়া হবে, যেখানে আগে এই সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মে তৃতীয় বছরের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি আর শুধু নির্দিষ্ট কাজের দিন পূরণের ওপর নির্ভর করবে না। আবেদনকারীদের লটারির মাধ্যমে সুযোগ পেতে হবে।

ফরাসি নাগরিক জোয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক মাস ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেছেন। নিয়ম মেনে কাজ করলে তৃতীয় বছরের ভিসা সহজেই পাবেন বলে আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার সুযোগ পেতে লটারিতে অংশ নিতে হবে। তার ভাষায়, “সবাই এখন চিন্তায় আছে, মন খারাপ।”

নতুন নিয়মের প্রভাব শুধু ব্যাকপ্যাকারদের ওপর নয়, অস্ট্রেলিয়ার কৃষি ও পর্যটন খাতেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফল তোলা, বেড়া মেরামতসহ বিভিন্ন মৌসুমি কাজে ব্যাকপ্যাকাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের অনাগ্রহের কারণে এসব কাজে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে কৃষকদের দাবি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষ অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। নির্মাণকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, কৃষি ও আইনশৃঙ্খলা খাতের দক্ষ কর্মীরা দেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখেন। এ কারণে ব্যাকপ্যাকার ভিসার সংখ্যা কমানো হয়েছে।

তবে সমালোচকদের দাবি, এর ফলে আঞ্চলিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্বিতীয় বছরের ভিসার সংখ্যা ৫৭ হাজার থেকে কমিয়ে ৪৫ হাজার করা হয়েছে। আর তৃতীয় বছরের ভিসা ৩১ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ হাজার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার ভিসা কমেছে।

ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ নাগরিকেরা আঞ্চলিক এলাকায় নির্দিষ্ট কাজ না করেও দুই বা তিন বছর পর্যন্ত থাকতে পারবেন। একই সাথে বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করা হয়েছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিটিশ ব্যাকপ্যাকারদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮০ হাজার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ভিসা প্রক্রিয়াতেও বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। আগে কয়েক দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া গেলেও এখন অনেক আবেদনকারীকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পর্যটন ব্যবসা ও কৃষি খাতের নিয়োগকর্তারাও সমস্যায় পড়ছেন।

সরকার জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের শ্রমিকদের আনার জন্য আলাদা কর্মসূচি রয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ব্যাকপ্যাকারদের সংখ্যা কমে গেলে কৃষি ও পর্যটন খাতে শ্রমিক সংকট আরও বাড়তে পারে।

ফ্রান্সের নাগরিক লরা তিন মাস ধরে অস্ট্রেলিয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তৃতীয় বছরের ভিসা পাওয়ার আশা থাকলেও নতুন নিয়মে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা সেই কাজ করি, যা স্থানীয়রা করতে চান না। আমরা করি শুধু থাকার জন্য।”