গ্রিসের গোল্ডেন ভিসা: রিয়েল এস্টেট নাকি ব্যাংক ডিপোজিট
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ইউরোপে বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের সুযোগের ক্ষেত্রে গ্রিসের গোল্ডেন ভিসা এখনো অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি। বিনিয়োগকারীরা রিয়েল এস্টেট কেনার পাশাপাশি ব্যাংক ডিপোজিট ও বিভিন্ন আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ করেও পাঁচ বছরের রেসিডেন্স পারমিট পেতে পারেন। স্পেন ও পর্তুগাল সম্পত্তিভিত্তিক গোল্ডেন ভিসা বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রিসের এই সুযোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গোল্ডেন ভিসার সুবিধা পরিবারের সদস্যদেরও দেওয়া হয়। এর আওতায় স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং বাবা-মা আবেদন করতে পারেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে বিনিয়োগ ধরে রাখা হলে পারমিট নবায়নের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভিসাধারীরা শেনজেন এলাকায় ভ্রমণের সুবিধা পান।
রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসা পেতে এথেন্স, থেসালোনিকি, মিকোনোস, সান্তোরিনি ও বড় দ্বীপগুলোতে অন্তত ৮ লাখ ইউরোর একটি বাড়ি কিনতে হয়। অন্যান্য এলাকায় ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ লাখ ইউরো। বাড়িটির আয়তন হতে হবে কমপক্ষে ১২০ বর্গমিটার।
বিশেষ ক্ষেত্রে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বিনিয়োগ করেও গোল্ডেন ভিসার যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরোনো বাণিজ্যিক ভবনকে আবাসিক ব্যবহারের উপযোগী করে রূপান্তর করতে হয়। তবে সম্পত্তির আয়তন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
অন্যদিকে আর্থিক বিনিয়োগের পথেও গোল্ডেন ভিসা পাওয়া যায়। ব্যাংক ডিপোজিট বা সরকারি বন্ডে ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করলে যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব। গ্রিসকেন্দ্রিক ফান্ডে ৩ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। শেয়ার ও করপোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৮ লাখ ইউরো।
ব্যাংক ডিপোজিট থেকে পাওয়া সুদের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর কেটে নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পুরো বিনিয়োগের অর্থ একটি ব্যাংকে রাখতে হয়।
এদিকে অ-ইইউ নাগরিকদের জন্য সম্পত্তি হস্তান্তর কর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে গ্রিস সরকার। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ৮ লাখ ইউরোর একটি বাড়ি কিনতে হস্তান্তর কর ২৪ হাজার ইউরো থেকে বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো হতে পারে। ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে নোটারিয়াল ডিড সম্পন্ন করা হলে পুরোনো করহার প্রযোজ্য হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ব্যাংক ডিপোজিট বা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পত্তি হস্তান্তর কর প্রযোজ্য নয়। ফলে যারা সম্পত্তি কেনার পরিবর্তে অর্থ তরল অবস্থায় রাখতে চান, তাদের জন্য আর্থিক বিনিয়োগের পথটি একটি বিকল্প হতে পারে।
গ্রিসের অর্থনীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে পর্যটন খাতে রেকর্ড ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো আয় হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগও ৬২ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংক খাতও লাভজনক অবস্থায় রয়েছে।
তবে গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর আবাসিক হওয়া নয়। বছরে ১৮৩ দিনের বেশি গ্রিসে অবস্থান করলে কর আবাসিকতার আওতায় পড়তে পারেন বিনিয়োগকারী। নতুন আগতরা চাইলে বিদেশি আয়ের ওপর বছরে ১ লাখ ইউরোর নির্দিষ্ট কর দেওয়ার ব্যবস্থাও নিতে পারেন, যা সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
সব মিলিয়ে গ্রিসের গোল্ডেন ভিসায় বিনিয়োগকারীদের সামনে রিয়েল এস্টেট ও আর্থিক বিনিয়োগ—দুই ধরনের পথই খোলা রয়েছে। তবে সম্পত্তি হস্তান্তর কর বাড়ানোর প্রস্তাবের কারণে সম্পত্তি কিনতে আগ্রহীদের জন্য বিনিয়োগের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে তা নয়, কখন করা হবে—সেটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।



