কানাডায় বাতিল হতে পারে সি-৩ বিল? নাগরিকত্ব নিয়ে যা জানা দরকার

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

কানাডার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে বিল সি-৩ কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। নতুন আইনের ফলে বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডিয়ান নাগরিকদের সন্তানরাও নির্দিষ্ট শর্তে নাগরিকত্ব দাবি করতে পারছেন। এর মাধ্যমে আগে থাকা প্রথম-প্রজন্ম সীমা বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে ১ হাজার ৯৫ দিনের ‘সাবস্ট্যানশিয়াল কানেকশন’ শর্ত যুক্ত হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে বিল সি-৩ বাতিল বা পরিবর্তন করা হলে এর আওতায় পাওয়া নাগরিকত্বের কী হবে?

আইনজীবীদের মতে, কানাডার সংসদ ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করতে পারে। তবে ইতোমধ্যে বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকার শুধু আইন পরিবর্তনের কারণে বাতিল হবে না। নাগরিকত্বের সনদ মূলত নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র। একবার নাগরিকত্ব স্বীকৃত হলে তা স্থায়ী হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০০৯ সালে কানাডায় প্রথম-প্রজন্ম সীমা চালু করার সময়ও যাদের আগে থেকেই নাগরিকত্ব ছিল, তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়নি। ফলে বিল সি-৩-এর আওতায় পাওয়া নাগরিকত্বকে অস্থায়ী বা শর্তাধীন হিসেবে দেখার কারণ নেই।

কানাডার নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও বেশ দীর্ঘ। সংসদে বিল উত্থাপন, একাধিক ধাপে পাঠ, কমিটির পর্যালোচনা, প্রতিবেদন, ভোট এবং গভর্নর জেনারেলের অনুমোদন—সব মিলিয়ে আইন পরিবর্তনে কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। তাই হঠাৎ করে আইন বাতিল হওয়ার সুযোগ সীমিত।

তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণে নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা। এটিকে ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশন’ বলা হয়। ভুয়া নথি জমা দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব নেওয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল হতে পারে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে বৈধভাবে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিল হবে না।

২০২৬ সালের জুনে কানাডার অভিবাসন বিভাগ কিছু আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সনদ ফেরত চেয়েছিল এবং নতুন প্রমাণপত্রের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে বিভাগ জানায়, এতে মাত্র ১ শতাংশ আবেদনকারী প্রভাবিত হয়েছেন। পাশাপাশি নতুন নথি যাচাইয়ের নিয়মও কঠোর করা হয়েছে।

বিল সি-৩ কার্যকর হওয়ার পর অনেক আমেরিকান জানতে পারছেন, তারা কানাডার নাগরিকত্বেরও অধিকারী। কানাডা ও আমেরিকা—দুই দেশই দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা একই সাথে দুই দেশের নাগরিক হতে পারেন। এর মাধ্যমে কানাডায় বসবাস, কাজ, পড়াশোনা ও ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়।

কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়া মানেই নতুন করে কর দিতে হবে—এমন নয়। করের বিষয়টি মূলত কর আবাসিকতার ওপর নির্ভর করে। কেউ কানাডায় বসবাস না করলে বা সেখানে আয় না করলে সাধারণভাবে কানাডায় কর দেওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হয় না। আর কানাডায় বসবাস করলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা কর চুক্তি দ্বৈত করের ক্ষেত্রে সুরক্ষা দিতে পারে।

যারা মনে করছেন তাদের কানাডিয়ান বংশসূত্র থাকতে পারে, তাদের পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সাথে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো পূর্বপুরুষ কানাডায় জন্মেছিলেন কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে শুধু বংশসূত্রের দাবি যথেষ্ট নয়; প্রতিটি প্রজন্মের সম্পর্ক ও নাগরিকত্বের তথ্য নথির মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়।