শ্রমিক সংকটে সার্বিয়া, বাড়ছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার কর্মী

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

শ্রমিক সংকটের কারণে সার্বিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। নির্মাণ, পরিবহন, পর্যটন ও উৎপাদন খাতে স্থানীয় কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে।

সার্বিয়ার শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক দপ্তরের ‘মাইগ্রেশন প্রোফাইল ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে বসবাসকারী বিদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৬৭২ জনে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৪৭ জন। অর্থাৎ এক বছরে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে ২৪ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাশিয়ার নাগরিক। মোট বিদেশি কর্মীর ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ রাশিয়ার নাগরিক। এরপর চীনের নাগরিক ১৯ দশমিক ১ শতাংশ, ভারতের ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, তুরস্কের ৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং নেপালের ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিয়ায় অভিবাসনের সবচেয়ে প্রচলিত ধরন এখন শ্রম অভিবাসন। বিদেশি কর্মীদের বড় একটি অংশ অস্থায়ী বসবাস ও কাজের একক অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে দেশটিতে অবস্থান করছেন।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ থাকা বিদেশি কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ চাকরির চুক্তি বা কর্মসংস্থান চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছিলেন। প্রায় ১৮ শতাংশ ছিলেন স্বনির্ভর কর্মী।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজন অতিরিক্ত কর্মী

সার্বিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী দানিয়েল ইগ্রেচ বলেন, জনমিতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে দেশটিতে অতিরিক্ত শ্রমশক্তির প্রয়োজন হচ্ছে।

২০২৫ সালের মে মাসে সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশটি জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বেকারত্বের হার রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে থাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য অতিরিক্ত শ্রমশক্তি নিয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে।

তিনি বলেন, সার্বিয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি ও বড় প্রকল্পের কারণে বিদেশি কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। ২০২৭ সালে সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এক্সপোর জন্যও অতিরিক্ত শ্রমশক্তির প্রয়োজন হবে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নিয়ন্ত্রণ

বিদেশি কর্মী নিয়োগকে আরও সংগঠিত করতে নতুন নিয়ম চালু করেছে সার্বিয়া। শ্রম অভিবাসনকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ইগ্রেচ।

তার ভাষ্য, শ্রম গতিশীলতা চুক্তির মাধ্যমে সংগঠিত কর্মসংস্থানের নীতি চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হবে এবং রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে, পুরো প্রক্রিয়া আইন ও চুক্তি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় নিয়মিত ও বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে।

ইগ্রেচ আরও বলেন, অনেক বিদেশি কর্মী তাদের অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না। এ কারণে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সার্বিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশি কর্মীর উপস্থিতি

সার্বিয়ার বিভিন্ন শিল্প খাতেও বাংলাদেশি কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে। তবে দেশটির চীনা মালিকানাধীন লিংলং টায়ার কারখানায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শ্রম অধিকার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টির ২০২৬ সালের জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরেনিয়ানিন শহরের কাছে অবস্থিত ওই কারখানায় কিছু বাংলাদেশি কর্মী নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

কিছু শ্রমিকের অভিযোগ, তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ছবি তোলা ও ভিডিও করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল এবং কারখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল।

এ ছাড়া শ্রম অধিকার সংগঠনগুলো কয়েক ডজন বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাব্য শ্রম শোষণ ও মানবপাচারের অভিযোগ সার্বিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে জানিয়েছে।