জাপানে বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিড়, সরকারি হাইস্কুলে আসন সংকট
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
জাপানের কয়েকটি প্রিফেকচারে বিদেশি পটভূমির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ভর্তি কোটার চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এতে সরকারি হাইস্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংকট তৈরি হয়েছে।
কিয়োদো নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, টোকিও, কানাগাওয়া, ওসাকা ও হিয়োগো প্রিফেকচারে এ বছর নির্ধারিত আসনের তুলনায় বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে টোকিওতে ২৫০ আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৫১৭ জন। টানা সাত বছর ধরে সেখানে নির্ধারিত কোটার চেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ছে।
ওসাকায় ১৩২ আসনের বিপরীতে আবেদন এসেছে ৩৪৭টি। কানাগাওয়ায় ২২৯ আসনের বিপরীতে ২৩৬ জন এবং হিয়োগোতে ১৫ আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২৫ জন।
তবে ইবারাকি ও আইচি প্রিফেকচারে আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের সমান বা তার চেয়ে কম ছিল।
ভাষাগত দক্ষতার অভাবও অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়ামানাশি প্রিফেকচার জানিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী জাপানে আসার পরপরই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কিন্তু জাপানি ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকায় তাদের অনেকে ভর্তি হতে পারছে না।
ফুকুই প্রিফেকচার জানিয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বিদেশি অভিভাবকদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতিও সমস্যা তৈরি করছে। এতে সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ওসাকা ওয়াকাবা হাইস্কুলে ৩০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর মৌলিক জাপানি ভাষা শেখার প্রয়োজন রয়েছে। বিদ্যালয়টির শিক্ষক নাতসুমি কোদা বলেন, এসব শিক্ষার্থী নিজেরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে জাপানে আসেনি; তাদের পরিবার জাপানি সমাজকে সচল রাখতে কাজ করছে। তাই তাদের সন্তানদেরও যথাযথ সহায়তা দেওয়া উচিত।
বিদেশি পটভূমির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে জাপানের সরকারি স্কুলগুলোতে আসন, ভাষা শিক্ষা ও শিক্ষার্থী সহায়তা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে। ফলে শুধু ভর্তি কোটা বাড়ানো নয়, ভাষাগত ও শিক্ষাগত সহায়তার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।



