মানব পাচার মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ ওমানের

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

মানব পাচার প্রতিরোধে নতুন আইন ও কর্মসূচি চালু করেছে ওমান। সম্প্রতি জারি হওয়া রয়্যাল ডিক্রির আওতায় মানব পাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ ওমানি রিয়াল জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিশু বা সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে শাস্তি আরও বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে মানব পাচারের সংজ্ঞাও বিস্তৃত করা হয়েছে। দাসত্ব, জবরদস্তি, জোরপূর্বক শ্রম ও সেবাদাসত্বের পাশাপাশি কারও পাসপোর্ট জব্দ বা ধ্বংস করাকেও স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি আইনি, মানসিক ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বাসস্থান ও শ্রমসংক্রান্ত ফি এবং জরিমানা থেকেও ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। জোরপূর্বক করানো কাজের জন্য ভুক্তভোগীদের দায়ী করা হবে না।

এদিকে জাতীয় মানব পাচারবিরোধী কমিটি ‘আমান’ নামে একটি সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালু করেছে। তিন মাসের এই কর্মসূচিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্মশালা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানব পাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো, নিরাপদে অভিযোগ জানানোর পথ জানানো এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ওমানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মানব পাচারের ৩৯টি মামলা মোকাবিলা করা হয়েছে। একই সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৪ হাজারের বেশি। এ ছাড়া জোরপূর্বক বিয়ের ২৬টি এবং নারী নির্যাতনের ৮টি মামলা হয়েছে।

মানব পাচারের সন্দেহজনক কোনো ঘটনা দেখা গেলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। এ জন্য রয়্যাল ওমান পুলিশের হটলাইনেও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।