অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন, বর্ণবাদ নিয়ে বিতর্ক

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন ও প্রতিবাদও আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ‘March for Australia’ ব্যানারে দেশটির বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে অভিবাসনের হার কমানোর দাবি জানানো হলেও কয়েকটি ঘটনায় বর্ণবাদী ও উগ্র বক্তব্যের অভিযোগও উঠেছে।

২০২৫ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত ‘March for Australia’ সমাবেশে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অভিবাসনের বর্তমান হার নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হলেও বিভিন্ন সমাবেশে উগ্র ডানপন্থি ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও একই ব্যানারে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে সমাবেশ হয়। সিডনির সমাবেশে প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে কথিত ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেলবোর্নে একটি ঘটনায় বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ।

অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রভাব বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ওপর পড়ছে—এমন অভিযোগও এসেছে। ২০২৫ সালের সমাবেশের পর সিডনিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নায়োনিকা ভট্টাচার্য বর্ণবাদী গালাগালের শিকার হওয়ার কথা জানান। পার্থের ভারতীয় বংশোদ্ভূত কনটেন্ট নির্মাতা অগিও অনলাইনে বর্ণবাদী মন্তব্য ও মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি) প্রকাশ করেছে।

তবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই বর্ণবাদী উদ্দেশ্য নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন—এমন দাবি করা যায় না। ২০২৫ সালের সমাবেশ নিয়ে এবিসির প্রতিবেদনে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের কেউ অভিবাসনের হার, কেউ জীবনযাত্রার ব্যয়, আবার কেউ অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কিছু সমাবেশে ‘তাদের ফেরত পাঠাও’ ধরনের স্লোগান এবং বর্ণবাদী বক্তব্যও শোনা গেছে।

অভিবাসন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। তবে এসব সমস্যার জন্য অভিবাসীদের কতটা দায়ী করা যায়, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিতর্কে অভিবাসননীতির পাশাপাশি বর্ণবাদ, সামাজিক সংহতি ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজ নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারির সমাবেশেও পুলিশকে কয়েকটি ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সিডনির কর্মসূচিতে নব্য-নাৎসি সংগঠনের সদস্যদের পুলিশ সরিয়ে দেয় বলে এবিসি জানিয়েছে। ফলে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক তাই একদিকে অভিবাসনের সংখ্যা ও নীতিনির্ধারণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অন্যদিকে অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, বর্ণবাদ এবং সামাজিক সংহতির বিষয়ও এতে যুক্ত হচ্ছে।