মানব পাচার ঠেকাতে কঠোর ওমান, সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
মানব পাচার প্রতিরোধে শাস্তি বাড়িয়ে নতুন আইন কার্যকর করেছে ওমান। দেশটির নতুন আইনে সাধারণ মানব পাচারের ঘটনায় তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ওমানি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শিশু, একাধিক ব্যক্তি, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা আন্তদেশীয় পাচারের মতো গুরুতর ঘটনায় শাস্তি বেড়ে সাত থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। জরিমানার পরিমাণ হতে পারে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রয়্যাল ডিক্রি নম্বর ৭৮/২০২৫-এর মাধ্যমে নতুন মানব পাচারবিরোধী আইন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে ২০০৮ সালের আইনটি বাতিল করে মানব পাচারের সংজ্ঞা ও অপরাধের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
নতুন আইনে দাসত্ব, সেবাদাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের শোষণকে মানব পাচারের আওতায় আনা হয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে কারো পাসপোর্ট জব্দ বা ধ্বংস করাকেও স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা
নতুন আইনে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায়ও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও সহায়তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি, মানসিক ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাদের আবাসন ও শ্রমসংক্রান্ত ফি ও জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়ে কোনো কাজ করতে বাধ্য হলে সেই কাজের জন্য ভুক্তভোগীকে দায়ী না করার বিধানও রয়েছে।
‘আমান’ সচেতনতা কর্মসূচি
মানব পাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশটির জাতীয় মানব পাচারবিরোধী কমিটি ‘আমান’ নামে তিন মাসব্যাপী সচেতনতা কর্মসূচি চালু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্মশালা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানব পাচারের ঝুঁকি, নিরাপদে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও ওমানে মানব পাচারের বিভিন্ন লক্ষণ, ভুক্তভোগীদের ব্যবস্থাপনা এবং ঘটনা জানাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাসপোর্ট জব্দ, বেতন না দেওয়া, অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, চাকরি থেকে বাদ দেওয়া বা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি এবং চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করাকে মানব পাচারের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
২০২৫ সালে ৩৯ মানব পাচারের মামলা
ওমানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৩৯টি মানব পাচারের মামলা মোকাবিলা করা হয়েছে। একই সময়ে ৪ হাজার ১৯৯টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা, ২৬টি জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা এবং নারীদের নির্যাতনের আটটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরও মানব পাচারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের খবর এসেছে। গত এপ্রিলে ওমানি কর্তৃপক্ষ তিনজনকে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিশুকে জোর করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল ওমান পুলিশ মানব পাচারের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল।
অভিযোগ জানাতে হটলাইন
মানব পাচারের সন্দেহজনক কোনো ঘটনা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ওমানের জাতীয় মানব পাচারবিরোধী কমিটি। দেশটিতে মানব পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে রয়্যাল ওমান পুলিশের হটলাইন ৮০০ ৭৭ ৪৪৪ চালু রয়েছে।
নতুন আইন, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে মানব পাচার প্রতিরোধে প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা ও অপরাধীদের বিচারের ওপর জোর দিচ্ছে ওমানি কর্তৃপক্ষ।



