জাপানে রেকর্ড সংখ্যক দক্ষ কর্মী ভিসাধারী

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

জাপানে স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডব্লিউ) ভিসাধারী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুনের শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৬ জনে। ডিসেম্বরের তুলনায় যা প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আর এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে এক লাখেরও বেশি।

এসএসডব্লিউ টাইপ-১ ভিসাধারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এই ভিসায় জাপানে কাজ করছেন। নির্দিষ্ট দক্ষতা থাকা এসব কর্মী সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত জাপানে থাকতে পারেন।

অন্যদিকে এসএসডব্লিউ টাইপ-২ ভিসাধারীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ডিসেম্বরের শেষে যেখানে এই ভিসাধারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ হাজার, জুনে তা বেড়ে ১৮ হাজারের বেশি হয়েছে। এই ভিসা দক্ষ কর্মীদের জন্য, যা নির্দিষ্ট শর্তে অনির্দিষ্টকাল নবায়ন করা যায়।

দেশভিত্তিক হিসাবে ভিয়েতনাম থেকে আসা কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জুনে তাদের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার, যা মোট এসএসডব্লিউ কর্মীর প্রায় ৩৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও চীন। ডিসেম্বরের তুলনায় ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবেও কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন খাতে কর্মী সংখ্যা এক লাখের বেশি। নার্সিং কেয়ার খাতে প্রায় ৮০ হাজার, শিল্পপণ্য উৎপাদনে ৬২ হাজার, নির্মাণ খাতে ৫২ হাজারের বেশি, খাদ্য পরিবেশন খাতে প্রায় ৫০ হাজার এবং কৃষিতে ৪৪ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন।

ছোট কয়েকটি খাতেও দ্রুত বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন খাতে কর্মীর সংখ্যা কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় চার গুণ বেড়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে। আইচি প্রিফেকচারে সবচেয়ে বেশি এসএসডব্লিউ কর্মী রয়েছেন—প্রায় ৩১ হাজার। এরপর রয়েছে টোকিও ও ওসাকা।

তবে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এ খাতে নিয়ন্ত্রণও জোরদার করছে জাপান সরকার। ২০২৭ অর্থবছর থেকে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ ব্যবস্থা চালু হবে। এর মাধ্যমে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এসএসডব্লিউ টাইপ-১ ভিসায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা হবে।

সরকার খাতভিত্তিক কর্মীসংখ্যার সীমাও নির্ধারণ করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এসএসডব্লিউ টাইপ-১ ভিসায় সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৫ হাজার কর্মী এবং নতুন ব্যবস্থায় ৪ লাখ ২৬ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার।

কোনো খাতে নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের পর্যায়ে পৌঁছালে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করা হবে। খাদ্য পরিবেশন খাতে এর উদাহরণ দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে এ খাতে কর্মীর সংখ্যা ৪৬ হাজারে পৌঁছায়, যেখানে নির্ধারিত সীমা ছিল ৫০ হাজার। এরপর এপ্রিল থেকে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। জুনে এ খাতে কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪৯ হাজারে।

জাপান ২০১৯ সালে এসএসডব্লিউ ব্যবস্থা চালু করে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং বয়স্ক শ্রমশক্তির কারণে দেশটি বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। নতুন কর্মীসংখ্যার সীমা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভারসাম্য বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার।