জার্মানিতে অভিবাসন বাজেট কাটছাঁট

সংকটে পড়তে পারে আশ্রয়প্রার্থীদের পরামর্শসেবা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

জার্মানি অভিবাসন খাতে বাজেট কমানোর পরিকল্পনা করছে। এতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্বাধীন পরামর্শসেবা সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হতে পারে। এতদিন বিভিন্ন এনজিও ও নাগরিক সমাজের সংগঠন এসব সেবা দিয়ে আসছিল। তারা আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার, দায়িত্ব এবং আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ দিত।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সেবা কেবল ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে বয়স্ক আশ্রয়প্রার্থী, একাকী শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিরা থাকবেন। অন্য আবেদনকারীদের সরকারি দপ্তরের সীমিত সেবার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

বছরের পর বছর এনজিওগুলো জার্মানির ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস (বিএএমএফ)-এর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক গ্রহণকেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেলে সরকারি সেবায় চাপ তৈরি হয়। তখন এনজিওগুলো পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে।

তবে ২০২৭ সালের বাজেট পরিকল্পনায় এই খাতে মাত্র ৫০ লাখ ইউরো বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বরাদ্দের পরিমাণ এর প্রায় পাঁচ গুণ। একই সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত সেবায় চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জার্মানির অভিবাসন আইনের আওতায় ২০২৩ সালে স্বাধীন পরামর্শসেবা চালু করা হয়। তিন বছরের মূল্যায়নে এই সেবা আশ্রয়প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন বাজেট পরিকল্পনায় সেবাটি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনজিওগুলোর বক্তব্য, কে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তা অনেক সময় সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে বোঝা যায়। আগে থেকেই নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ভাগ করে দিলে মানব পাচারের শিকার, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিরা সেবা থেকে বাদ পড়তে পারেন।

সংশ্লিষ্ট গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি তিনজন আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে একজন মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারেন। ফলে পরামর্শসেবা সীমিত করলে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বামপন্থি দল ডি লিঙ্কে এই পরিকল্পনার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন আশ্রয়ব্যবস্থার আওতায় বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধান ও বাজেট পরিকল্পনার বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর।