আমেরিকায় বেসরকারি খাতে ৯০ হাজার চাকরি বেড়েছে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় বেসরকারি খাতে ৯০ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। আগস্টে ৩৬ হাজার চাকরি বাড়ার পর সেপ্টেম্বরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি বেড়েছে। পেরোল প্রতিষ্ঠান এডিপির (ADP) জাতীয় কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এডিপির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে চাকরি বৃদ্ধির পরিমাণ অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হয়েছে। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা ৭০ হাজার চাকরি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির সংখ্যাও ৩৮ হাজার থেকে সংশোধন করে ৩৬ হাজার করা হয়েছে।

এডিপির প্রধান অর্থনীতিবিদ নেলা রিচার্ডসন বলেন, তিন মাসের ধীরগতির পর সেপ্টেম্বরে চাকরি সৃষ্টি আবার বেড়েছে এবং মজুরি বৃদ্ধিও স্থিতিশীল রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে। এ খাতে ৫৫ হাজার চাকরি বেড়েছে। অবসর ও আতিথেয়তা খাতে বেড়েছে আরও ২২ হাজার। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার এবং উৎপাদন খাতে ১৭ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। বিপরীতে আর্থিক খাতে ১৬ হাজার এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবায় ১১ হাজার চাকরি কমেছে।

প্রতিষ্ঠানের আকার অনুযায়ী মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। ৫০ থেকে ৪৯৯ কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৫৪ হাজার চাকরি বেড়েছে। ছোট প্রতিষ্ঠানে ২৩ হাজার এবং বড় প্রতিষ্ঠানে ১৪ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে।

এদিকে সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতের কর্মীদের মূল বেতন এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে চাকরি পরিবর্তনকারীদের মূল বেতন বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে এডিপির প্রতিবেদনকে আমেরিকার সামগ্রিক চাকরির বাজারের চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা হয় না। এডিপি মূলত বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান পরিমাপ করে এবং এর তথ্য সরকারি শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) প্রতিবেদনের সাথে সব সময় এক নয়। সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক কর্মসংস্থানের সরকারি প্রতিবেদন আলাদাভাবে প্রকাশ হওয়ার কথা।

এর আগে আগস্টের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় চাকরির সুযোগ কমে ৭ দশমিক ০৭৯ মিলিয়নে নেমেছিল। তবে ছাঁটাইয়ের হারও কম ছিল, যা শ্রমবাজারে চাহিদা কিছুটা স্থিতিশীল থাকার ইঙ্গিত দেয়।

ফেডারেল রিজার্ভ সেপ্টেম্বরে নীতিগত সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। তবে পরবর্তী সময়ে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানসহ অর্থনীতির নতুন তথ্যের ওপর।