বিশ্বকাপে নজরে রাখার মতো ১০ খেলোয়াড়

ডেল্টা খেলা

ডেল্টা খেলা

প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২৬

ফুটবলের সর্বকালের সেরা দুজন তারকা সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলবেন। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো অবশেষে স্পেনের লামিন ইয়ামালসহ নতুন প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দিতে পারেন।

১৯ বছর বয়সে ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা কিলিয়ান এমবাপে মেসি ও রোনালদোর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করার জন্য এখনও অপেক্ষা করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে নিজেদের ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখছেন আরও অনেকেই; নরওয়ের গোল মেশিন আর্লিং হালান্ড থেকে শুরু করে টিম ইউএসএর ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক।

চলতি বছরের বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারেন যে ১০ খেলোয়াড়:

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা):

চার বছর আগে কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ এনে দিয়ে অবশেষে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছিলেন মেসি। কাতারের পর, তিনি মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামিকে একটি শক্তিশালী দলে পরিণত করতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন এবং গত বছর এমএলএস কাপ জেতেন। বিশ্বকাপের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে মেসি আর্জেন্টিনাকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলেছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা গত সপ্তাহে ইন্টার মায়ামির একটি ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে তাকে রেখেই ২৬ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মায়ামির চলতি মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল):

রোনালদো এখনও তার বর্ণিল ও রেকর্ড ভাঙা-গড়ার ক্যারিয়ারে একমাত্র অধরা ট্রফিটির জন্য অপেক্ষা করছেন। পর্তুগাল তারকা এই মৌসুমে সৌদি ক্লাব আল নাসরকে ঘরোয়া লিগ শিরোপা জেতানোর পর বিশ্বকাপে চোখ রাখছেন। তার ১৪৩টি গোল পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি রেকর্ড এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার ৪১ গোলের রেকর্ড অন্য কারও নেই। ৪১ বছর বয়সেও ট্রফি ও রেকর্ডের প্রতি তার ক্ষুধা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শিরোপা জয়ের পথে আল নাসর ফরোয়ার্ড ৩০ ম্যাচে ফুটিয়েছেন ২৮টি গোল।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স):

মেসি ও রোনালদোর পর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের তকমাটি নিজের করে নেওয়ার জন্য এমবাপে দীর্ঘদিন ধরে লড়ছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপ ও একাধিক শিরোপাজয়ী হিসেবে ইতোমধ্যেই তা করে দেখিয়েছেন, কিন্তু তিনি এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। তিনি যদি ফ্রান্সকে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে পারেন, পাশাপাশি এ বছরের ব্যালন ডি’অর জেতার একটি ভালো সুযোগ পাবেন। মাদ্রিদে দুই বছর কাটানোর পরও স্পেনে কোনো বড় শিরোপার জন্য এখনও অপেক্ষা করছেন সবশেষ লা লিগায় ৩১ ম্যাচে ২৫ গোল করা এই ফরোয়ার্ড।

উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স):

বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই দুই বারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী হয়ে উঠেছেন। ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড তিন বছর আগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার ক্যারিয়ারকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। দলটিকে গত মৌসুমে তাদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে সাহায্য করেছেন এবং এই বছর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি জেতালেন। ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে সমতা ফেরানো গোলও করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৩ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে):

ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার ক্লাব ফুটবলে রেকর্ড ভাঙার পর তার প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছেন। ২৫ বছর বয়সী হালান্ড চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং প্রিমিয়ার লিগে গোল করার গতির দিক থেকে ইতোমধ্যে মেসির তৈরি করা মানদণ্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন। চলতি বিশ্বকাপে নরওয়েকে আন্ডারডগ বা দুর্বল দল ধরা হলেও, হালান্ডের মতো একজন অসাধারণ ফরোয়ার্ড তাদের দলে রয়েছে। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তিনি ৮ ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন। বিশ্বকাপের বছরে ৩৫ ম্যাচে ২৭ গোল করে এবারও প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ গোলদাতা হয়েছেন তিনি।

লামিন ইয়ামাল (স্পেন):

স্পেনের এই তরুণ সেনসেশন ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে (ইউরো) দলের ট্রফি জয়ের মূল তারকা ছিলেন। ফাইনালের আগের দিন পর্যন্ত তার বয়স ১৭ বছর পূর্ণ হয়নি। মন্ত্রমুগ্ধকর গতি ও ফুটওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি পুরুষ ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। মেসি ও রোনালদো অবসর নেওয়ার পর শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য এমবাপেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দৌড়ে ইয়ামাল বেশ এগিয়ে আছেন। বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমের শেষ দিকে চোট পেলেও আশা করা হচ্ছে দ্বিতীয় ম্যাচে দলে পাওয়া যাবে তাকে।

জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড):

এই মিডফিল্ডারকে ২০২৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ দলে ভেড়ানোর আগে ইউরোপের প্রতিটি শীর্ষ দলই পেতে চেয়েছিল। মাদ্রিদের হয়ে প্রথম মৌসুমেই তিনি ক্লাবটিকে তাদের ১৫তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ও স্প্যানিশ লিগ জেতাতে নেতৃত্ব দেন। বেলিংহাম একজন ম্যাচ-উইনার, যিনি বড় মঞ্চে অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করতে সক্ষম এবং ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের প্রথম কোনো বড় শিরোপা জেতার আশার মূল ভরসা হবেন তিনি।

নেইমার (ব্রাজিল):

ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই দেশের মানুষের প্রত্যাশার ভার নিজের কাঁধে বহন করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার চার বছর আগে কাতারে কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার করতে পারেননি। গত আসরের পর থেকে ইনজুরি ও সৌদি আরবে একটি হতাশাজনক অধ্যায় কাটান। তবুও তার ওপর ভরসা রেখেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপের জন্য ডাক পাওয়া সান্তোসের এই তারকা ফিটনেসের পরীক্ষা দেওয়ার পথে ১৫ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন।

মোহামেদ সালাহ (মিশর):

মিশরের এই আইকন একটি হতাশাজনক মৌসুমের পর লিভারপুল ছাড়ছেন, তবে তিনি এখনও তার দেশের মূল ভরসা। মিশর কেবল আশা করতে পারে যে ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার তার সেরা ফর্মটি বিশ্বকাপের জন্য বাঁচিয়ে রেখেছেন। সালাহ লিভারপুলের হয়ে ৪২ ম্যাচে ২৫৭টি গোল করেছেন এবং ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাসহ সব ধরনের ট্রফি জিতেছেন।

ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক (যুক্তরাষ্ট্র):

ছোটবেলা থেকেই পুলিসিককে আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিদেশি লিগের তারকা হওয়ার যোগ্য হিসেবে ভাবা হতো। বর্তমানে এসি মিলানে থাকা এই ফরোয়ার্ড নিজের সেরা ফর্ম খুঁজে পেয়েছেন এবং ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র দলকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবেন। সর্বশেষ সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া প্রীতি ম্যাচেও তিনি একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন।