স্বপ্ন দেখতাম আমার শটে দল আইপিএল জিতছে: কোহলি

ডেল্টা খেলা

ডেল্টা খেলা

প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২৬

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) ট্রফি জেতার জন্য মাত্র ১ রান দরকার ছিল। ১৯তম ওভারে আরশাদ খানের শেষ বলটি মাঠের বাইরে উড়িয়ে দিলেন বিরাট কোহলি। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের লক্ষাধিক দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়লেন। ম্যাচ জেতানো সেই শট মেরেই হেলমেট খুলে দুই হাত চওড়া করে চেনা ভঙ্গিতে উৎসবে মাতলেন কোহলি। বেঙ্গালুরুর টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাতটি এভাবেই রঙিন হয়ে থাকল। ম্যাচের পর কোহলি স্বীকার করেছেন, এবার ট্রফি জেতার স্বপ্ন সত্যি হলো তাঁর নিজের ব্যাট থেকেই।

ফাইনালের মতো মেগা ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটাররা যেভাবে একের পর এক আত্মসমর্পণ করেছেন, তাতে প্রথমার্ধেই আরসিবির জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ফাইনালে জয়ের জন্য মাত্র ১৫৫ রানের লক্ষ্য পায় বেঙ্গালুরু। যদিও অতীতে এর চেয়েও কম রান ডিফেন্ড করে জেতার রেকর্ড আইপিএলে রয়েছে, তবে কোহলি এবং ভেঙ্কটেশ আয়ার মিলে শুরুটা যেভাবে করেছিলেন, তাতেই ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়। মাঝপথে বেঙ্গালুরু পরপর কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন কোহলি।

ম্যাচ জেতানো ছক্কাটি মারার পরপরই আরসিবির ক্রিকেটাররা মাঠে দৌড়ে আসেন। উদযাপনের একপর্যায়ে গ্যালারিতে থাকা স্ত্রী আনুষ্কা শর্মাকে খুঁজে নিয়ে দূর থেকেই তিনটি ফ্লাইং কিস ছুড়ে দেন কোহলি। পরে মাঠে বসেই ফোনে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে, সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আমি অনেকবার এই মুহূর্তটার কল্পনা করেছি যে—আমরা ট্রফি জিতছি এবং জয়সূচক শটটি আসছে আমার ব্যাট থেকে। বর্তমান দলে যে তরুণ ক্রিকেটাররা রয়েছে, তারা প্রতি মুহূর্তে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে এবং আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।”

এর আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে কোহলি বলেন, “আমি ছেলেদের বলেছিলাম, গতবারের মতো চাপ এবার আমাদের ওপর নেই। আমরা জানতাম এই দল কী করতে পারে। আমরা গ্রুপ পর্বে শীর্ষে থেকে শেষ করেছি। নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে যে আমাদের হারানো অসম্ভব, তা দলের সবাই বিশ্বাস করত। এই মানসিকতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তাই আজ সবাই মাঠে দেখতে পেয়েছে।”

মাঝপথে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো সন্দেহ তৈরি হয়েছিল কিনা—সঞ্চালক অ্যারন ফিঞ্চের এমন প্রশ্নের জবাবে কোহলি বলেন, “বিরতির পর আমরা দুটো ম্যাচে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিলাম। একটা ম্যাচ হেরেছিলাম, আর মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছিলাম। সেই সপ্তাহটা বেশ কঠিন ছিল। তবে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে জেতার পরেই আমাদের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরে আসে। এরপর কেকেআরকে সহজে হারিয়ে আমরা টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখি।”

দলের ভারসাম্য নিয়ে দারুণ সন্তুষ্ট কোহলি কৃতিত্ব দিয়েছেন পুরো স্কোয়াডকে। তিনি বলেন, “অসাধারণ খেলেছে গোটা দল। এত বছর এই ট্রফির জন্য অপেক্ষা করেছি। তবে এখন মাঠে নামলে মনে হয় না যে শুধু আমাকেই ম্যাচ জেতাতে হবে। আমি জানি আমার পেছনে ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউড, জ্যাক ডাফি এবং ক্রুণাল পান্ডিয়াদের মতো বিশ্বসেরা বোলাররা আছে। এবার রাসিখ দারও অসাধারণ খেলেছে। ব্যাটাররাও দারুণ অবদান রেখেছে। এই অলরাউন্ড দলের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।”