সুইজারল্যান্ডে গবেষণার সুযোগ, মিলবে বেতন-ভাতা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬
সুইজারল্যান্ডের শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইটিএইচ জুরিখে আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য রয়েছে পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সুযোগ। ‘ইটিএইচ পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ ২০২৬’-এর আওতায় তরুণ গবেষকরা নিজস্ব গবেষণা পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে কাজের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যোগ্য গবেষকরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করা যাবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইটিএইচ জুরিখ সুইজারল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা এই প্রতিষ্ঠানটি উদ্ভাবনী গবেষণা, আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে একাধিক নোবেল বিজয়ীও রয়েছেন।
ফেলোশিপে যা থাকছে
ফেলোশিপের মেয়াদ দুই বছর। নির্বাচিত গবেষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পূর্ণকালীন বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি গবেষণা, ভ্রমণ ও গবেষণাসংক্রান্ত অন্যান্য খরচের জন্য প্রতি বছর ১২ হাজার সুইস ফ্রাঁ দেওয়া হবে।
এই ফেলোশিপ মূলত পিএইচডি সম্পন্ন করা তরুণ গবেষকদের স্বাধীন গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সহায়তার জন্য দেওয়া হয়। নিজস্ব গবেষণার ধারণা ও শক্তিশালী গবেষণা প্রস্তাবনা রয়েছে—এমন প্রার্থীদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যোগ্যতা
আবেদনের জন্য প্রার্থীকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী হতে হবে। তবে আবেদনের সময়সীমার ছয় মাসের মধ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করবেন—এমন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীর অন্তত একটি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশিত থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে পিএইচডি গবেষণার জন্য স্বীকৃতি বা পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রমাণও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
ফেলোশিপের গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হলো, আবেদনকারীকে ইটিএইচ জুরিখের একজন অধ্যাপকের সমর্থন বা মেন্টরশিপ নিশ্চিত করতে হবে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করে গবেষণা সহযোগিতার বিষয়ে সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া আবেদনকারীর দুটি সুপারিশপত্র প্রয়োজন হবে। এগুলো সংশ্লিষ্ট সুপারিশকারীদের মাধ্যমে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্টস অফিসে পাঠাতে হবে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের জন্য সাধারণত হালনাগাদ সিভি, গবেষণা প্রস্তাবনা, শিক্ষাগত সনদ ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রকাশিত গবেষণাকর্মের তথ্য, মোটিভেশন লেটার, অধ্যাপকের সমর্থন বা আমন্ত্রণপত্র এবং সুপারিশপত্র প্রয়োজন হয়।
ফেলোশিপটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর সাফল্যের হার প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার মান এবং প্রস্তাবনার গুণগত দিক যাচাই করা হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের ভিডিও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল সাধারণত আবেদনের প্রায় চার মাস পর প্রকাশ করা হয়।
আগ্রহী গবেষকরা ইটিএইচ জুরিখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা।
আবেদনের আগে যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অধ্যাপকের সম্মতি এবং অন্যান্য শর্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে নেওয়া উচিত।



