অতিরিক্ত ৭৫০ ডলারে দ্রুত ভিসা ইন্টারভিউ চালু করল আমেরিকা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬

পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নতুন একটি ফাস্ট ট্র্যাক ইন্টারভিউ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এ ব্যবস্থায় যোগ্য বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত আবেদন ফির বাইরে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, Nonimmigrant Visa Expedited Appointment Pilot Program নামে পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। প্রথম ধাপে মেক্সিকোতে অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ২১ জুলাই থেকে এটি চালু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও দেশ এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে প্রচলিত নিয়মে ১৮৫ ডলারের এমআরভি (MRV) ফি দিয়ে একটি সাধারণ ইন্টারভিউ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মসূচিটি চালু থাকলে, আবেদনকারী যোগ্য হলে এবং ফাস্ট ট্র্যাকের স্লট খালি থাকলে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে দ্রুত ইন্টারভিউয়ের সময় নির্ধারণ করা যাবে।

সে হিসেবে একজন আবেদনকারীকে নিয়মিত আবেদন ফি ও ফাস্ট ট্র্যাক ফি মিলিয়ে মোট ৯৩৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে।

তবে পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলেই ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না। এই অর্থ কেবল দ্রুত ইন্টারভিউয়ের সুযোগ নিশ্চিত করবে। ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সব আবেদনকারীকে একই ধরনের যোগ্যতা যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং কনস্যুলার কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এ ছাড়া দ্রুত ইন্টারভিউয়ের জন্য নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার পর ১০ মিনিটের মধ্যে অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে হবে। একবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে তা পরিবর্তন করা যাবে না। নির্ধারিত ইন্টারভিউতে উপস্থিত না হলে বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করলে ৭৫০ ডলার ফেরত দেওয়া হবে না

একই পরিবারের একাধিক সদস্য বা দলগত আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক আবেদনকারীকে আলাদাভাবে এই অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত অংশগ্রহণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে ঢাকায় আমেরিকার দূতাবাসে বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা এখনই এই ফাস্ট ট্র্যাক সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না।

তবে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতা ধাপে ধাপে আরও দেশে সম্প্রসারণ করা হতে পারে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এ তালিকায় যুক্ত হলে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আবেদনকারীরা এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।