পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসায় ধাক্কা, কমছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ফলে অনেকে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ প্রত্যাহার শুরু করেছেন, আর কেউ কেউ আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
লিসবনভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান Optimize Investment Partners জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার অন্তত ৪০ জন বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ তুলে নিয়েছেন। এতে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পেদ্রো লিনো বলেন, নাগরিকত্ব পেতে অপেক্ষার সময় দ্বিগুণ হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ হয়েছেন এবং বিকল্প গন্তব্য খুঁজছেন।
দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় ‘রেসিডেন্সি-বাই-ইনভেস্টমেন্ট’ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধনী পরিবারগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় এ কর্মসূচির আওতায় বিনিয়োগ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে পর্তুগাল বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশটির রিয়েল এস্টেট, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে। তবে নতুন নিয়মের ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেলে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও পর্তুগাল সরকার বলছে, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নাগরিকত্বের নিয়ম কঠোর করা হয়েছে, সমালোচকদের দাবি- এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশটির বিনিয়োগবান্ধব ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশ, যেমন গ্রিস ও মাল্টা, তুলনামূলকভাবে দ্রুত আবাসন সুবিধা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একাংশ সেদিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি আগের মতো আকর্ষণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



