নতুন নিয়মে মেক্সিকোর রেসিডেন্সিতে কড়াকড়ি, বাড়ছে ব্যয়
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬
মেক্সিকোতে বৈধ রেসিডেন্সি পাওয়ার পথ আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে। দেশটির সরকার রেসিডেন্সি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের আয় ও সঞ্চয়ের শর্ত কঠোর হচ্ছে, পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ফিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেক্সিকোতে রেসিডেন্সির আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক এবং দূরবর্তীভাবে কাজ করা পেশাজীবীদের মধ্যে দেশটিতে বসবাসের আগ্রহ বাড়ছে। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, অনুকূল আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক সুবিধার কারণে মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রেসিডেন্সির আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে আগের ন্যূনতম মজুরির পরিবর্তে এখন UMA (Unidad de Medida y Actualización) সূচক ব্যবহার করা হবে। ফলে আবেদনকারীদের আয় ও সঞ্চয়ের ন্যূনতম সীমা আগের তুলনায় আরও বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সালে এই মানদণ্ড অন্তত ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সাল থেকে রেসিডেন্সি কার্ডের সরকারি ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। আগে টেম্পোরারি রেসিডেন্সি থেকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় একজন আবেদনকারীর ব্যয় হতো প্রায় ২৫ হাজার মেক্সিকান পেসো। নতুন নিয়মে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৫০ হাজার পেসোতে পৌঁছাতে পারে। তবে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারী কিংবা চাকরির অফারের মাধ্যমে আবেদনকারীরা কিছু ক্ষেত্রে ফিতে ছাড় পেতে পারেন।
শুধু ব্যয়ই নয়, আবেদন প্রক্রিয়াতেও বাড়ছে কড়াকড়ি। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বাসার ঠিকানা যাচাই করতে কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল, ভাড়ার চুক্তিপত্রসহ আবাসনের প্রমাণপত্র নিয়মিত জমা দিতে হচ্ছে।
অভিজ্ঞদের মতে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে এবং অনেক আবেদন নিষ্পত্তি হতে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। ফলে মেক্সিকোয় রেসিডেন্সি পাওয়ার প্রক্রিয়া বিদেশিদের জন্য আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর আবেদনকারীদের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয় ও জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।



