বিদেশ যাওয়ার নামে প্রতারণা? জেনে নিন আইনি করণীয়

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৬

বিদেশে চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা উন্নত জীবনের আশায় প্রতি বছর হাজারো বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন।  এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় রয়েছে একাধিক প্রতারক চক্র।  তারা ভুয়া ভিসা, জাল চাকরির অফার লেটার কিংবা ভুয়া অনুমোদনপত্র দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।  অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিমানবন্দর পর্যন্ত নেওয়া হলেও বিদেশে পৌঁছানোর আগেই বা পরে ধরা পড়ে প্রতারণার ঘটনা।

সম্প্রতি এমন একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও অর্থ আদায় করা হয়েছে। কখনো কখনো মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণও দাবি করা হয়।  সুনামগঞ্জের এক যুবকের পরিবারকে এভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।  অন্যদিকে ইতালি পাঠানোর নামে ঢাকার এক তরুণকে জাল শেংগেন ভিসা দেওয়া হলে বিমানবন্দরেই বিষয়টি ধরা পড়ে।

প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারলেই দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।  প্রথমেই সব ধরনের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।  এর মধ্যে থাকতে পারে—

  • অর্থ লেনদেনের রশিদ
  • ব্যাংক ট্রানজেকশনের কাগজপত্র
  • চুক্তিপত্র
  • ভিসা বা অনুমোদনপত্রের কপি
  • কল রেকর্ড বা মেসেজ
  • ই-মেইল বা অনলাইন যোগাযোগের তথ্য

এসব প্রমাণ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কোথায় অভিযোগ করবেন?

ভুক্তভোগীরা নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে পারেন।  এছাড়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী সিআইডি কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।  প্রয়োজন হলে আদালতেও প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করা যায়।

কী বলছে আইন?

বাংলাদেশে ভিসা প্রতারণা ও কাগজপত্র জালিয়াতি রোধে একাধিক আইন রয়েছে।

Emigration Ordinance, 1982 অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

Migration Law, 2013 বিদেশগমন-সংক্রান্ত অনুমোদন, লাইসেন্স ও নিবন্ধনের বিষয়ে কঠোর বিধান নির্ধারণ করেছে।  বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুযায়ী জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা যায়।  অপরাধের ধরন অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে?

আইন অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।  এজন্য প্রতারণার প্রমাণ ও আর্থিক ক্ষতির তথ্য উপস্থাপন করতে হয়।

আইনজীবীরা বলছেন, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ঝামেলার ভয়ে অভিযোগ করেন না।  এতে প্রতারক চক্র আরও উৎসাহিত হয়।  তাই প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ করা, প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং আইনি সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা প্রতারণা ও কাগজপত্র জালিয়াতি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়; এটি দেশের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।  তাই সচেতনতার পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব চক্র দমন করা জরুরি।