কঠোর অভিবাসন নীতিতে বদলে যাচ্ছে এশীয়-আমেরিকানদের জীবন
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব এশীয়-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় (এএপিআই) জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে পড়ছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে অনেকেই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন।
এএপিআই ডাটা এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা নিজেরা বা তাদের পরিচিত কেউ আটক বা বহিষ্কারের আশঙ্কায় নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন নথি নিয়মিত সঙ্গে বহন শুরু করেছেন। কেউ কেউ ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, আবার অনেকে দৈনন্দিন রুটিনেও পরিবর্তন এনেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন মনে করেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য সুযোগের দেশ ছিল, তবে এখন আর আগের মতো নেই। মাত্র তিনজনের মতো উত্তরদাতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে দেখেন।
এএপিআই ডাটার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কার্তিক রামকৃষ্ণান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের পেছনে অভিবাসীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাস করা মানুষও যদি যুক্তরাষ্ট্রকে আর আগের মতো সুযোগের দেশ মনে না করেন, তবে সেটি নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা।
জরিপে আরও দেখা গেছে, বৈধ অভিবাসী ও নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতির প্রভাব অনুভব করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বৈধ অবস্থানের নথি সঙ্গে রাখার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
অন্যদিকে, অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ মনে করেন, বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মিশ্রণই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের মতে, অভিবাসন ও বৈচিত্র্য নিয়ে চলমান বিতর্ক উদ্বেগ তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো অনেক অভিবাসী পরিবারের জন্য সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতি শুধু অনিয়মিত অভিবাসীদের নয়, বৈধ অভিবাসী ও নাগরিকত্বপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।



