জাল শেংগেন ভিসায় ইতালি যাত্রা, বিমানের কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৬
নেপালগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর জাল শেংগেন ভিসায় ইতালিগামী বিমানে ওঠার ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তে মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জামালপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অফিসার মোহাম্মদ আখলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা।
সিআইডি জানায়, গত ২৬ মে তিন বাংলাদেশি ইতালিগামী একটি ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। রোম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দুই যাত্রীর জাল শেংগেন ভিসা শনাক্ত করে ইতালিয়ান কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, মানবপাচার চক্রের সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চুক্তির মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, যাত্রীরা প্রথমে নেপালগামী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন। যেহেতু নেপাল যেতে বাংলাদেশিদের ভিসার প্রয়োজন হয় না, তাই সেই বোর্ডিং পাস ব্যবহার করেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা হয়। তবে ওই ফ্লাইটের যাত্রী তালিকায় তাদের নাম ছিল না।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সিআইডি দেখতে পায়, ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার আগে তারা বিমানবন্দরের স্টাফ গেট দিয়ে বাইরে গিয়ে একটি গাড়ি থেকে ইতালিগামী ফ্লাইটের টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং জাল শেংগেন ভিসা সংগ্রহ করেন। পরে তারা আবার ভেতরে প্রবেশ করে।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে যাত্রীরা এমন একটি স্থানে যান যা সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে। সেখানে পাসপোর্টে জাল ভিসা সংযুক্ত করা হয়। এরপর ইতালিগামী ফ্লাইটের বোর্ডিংয়ের সময় দায়িত্বে থাকা গ্রাউন্ড অফিসার আখলাসুর রহমান তাদের সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, জাল ভিসা ব্যবহার করে ইতালিগামী বিমানে ওঠার ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তা সহায়তা করেছেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি মৌখিকভাবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে বিমানের আরেক কর্মকর্তাও রয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিআইডির দাবি, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে এয়ারলাইন্স ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



