ফিলিপাইনের অভিযানে বাধা, হেলিকপ্টারে নজরদারি চীনের
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে সন্দেহভাজন ডিনামাইট দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান বাধাগ্রস্ত করেছে চীনা জাহাজ। শুধু তা-ই নয়, আকাশপথেও চীনা নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ফিলিপাইনের সদস্যদের ওপর নজরদারি করেছে।
ফিলিপাইনের নিয়ন্ত্রণাধীন থিতু দ্বীপের কাছে রবিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি) জানায়, থিতু দ্বীপের পশ্চিমে প্রায় তিন নটিক্যাল মাইল দূরে স্যান্ডি কেইস ২ ও ৩-এর কাছে ডিনামাইট বা বিস্ফোরক ব্যবহার করে মাছ ধরার সন্দেহে একটি বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের মেরিটাইম গ্রুপের সদস্যরা অংশ নেন।
পিসিজির দাবি, অভিযান চলাকালে চায়না কোস্ট গার্ডের দুটি জাহাজ হর্ন বাজিয়ে ফিলিপাইনের দলকে রেডিওতে চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা ফিলিপাইনের নৌযানগুলোর গতিবিধি অনুসরণ করে সেগুলোর পথ আটকে দেয়।
একই সময় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ফিলিপাইনের সদস্যদের ওপর চারবার চক্কর দেয়। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ভীতি প্রদর্শন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
অভিযানে ফিলিপাইনের দলটি সন্দেহভাজন মাছ ধরার নৌযানটিকে থামার নির্দেশ দেয় এবং একাধিকবার রেডিওতে যোগাযোগ করে। তবে নৌযানটি নির্দেশ অমান্য করে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন সুবি রিফের দিকে চলে যায়। নিরাপত্তার কারণে পরে ধাওয়া বন্ধ করে থিতু দ্বীপে ফিরে আসে ফিলিপাইনের বাহিনী।
পিসিজি বলেছে, থিতুর আঞ্চলিক জলসীমায় চায়না কোস্ট গার্ডের কোনো আইন প্রয়োগের এখতিয়ার নেই। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সন্দেহভাজন নৌযানটি পালিয়ে যেতে আরো সুবিধা পেয়েছে বলেও দাবি করেছে ফিলিপাইন।
এদিকে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার বিতর্কিত স্কারবরো শোলের কাছে একটি ফিলিপাইন টহল বিমানের খুব কাছে চীনের জে-১৬ যুদ্ধবিমান বারবার এসে গতিপথ পরিবর্তন করে। এতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে।
ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী ঘটনাটিকে তাদের বৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজ ও বিমানের বিরুদ্ধে ‘অনিরাপদ ও জবরদস্তিমূলক আচরণের ধারাবাহিক প্রবণতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে একাধিক সামুদ্রিক উত্তেজনার মধ্যে সর্বশেষ এসব ঘটনা ঘটল। এ বিষয়ে ফিলিপাইনে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।



